আজিমপুরের “মায়ের দোয়া চটপটি এন্ড ফুসকা”

আমাদের কলেজের সামনে যেসব স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রায় সবগুলো খাবার আমার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। প্রতিটি খাবার বেশ সুস্বাদু ও মজাদার। কলেজের সামনে “মায়ের দোয়া চটপটি এন্ড ফুসকা”র ভ্যান রয়েছে। এক ভাইয়া এখানে নিয়মিত ফুচকা, চটপটি বিক্রি করে। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে প্রায় প্রতিদিন আমরা এখানে ফুচকা খাই। এখানের ফুচকা বেশ ভালো লাগে খেতে।

মচমচে ফুচকার গল্প আগের বেশ কয়েকটি লেখায় আমি বলেছি। আজ জানাবো গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ (আজিমপুর) এর সামনে যে মজাদার ফুচকা পাওয়া যায়, তার আদ্যোপান্ত।

এগারোটার দিকে ক্যাম্পাসে এসেছি একটা কাজে। কাজ শেষ করতে করতে অনেক দেরি হয়ে গেল। কারণ শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকায়, দ্রুত কাজ সেরে ওঠতে পারিনি। এতক্ষণে দুপুর ঘনিয়ে এলো। ঘড়ির কাটায় সময় প্রায় একটা। আমার ক্ষুধা লেগে গেছে। সচারচর আমি দুপুরের খাবার খাই দুপুর একটা থেকে দুইটার মধ্যে। যার ফলে এই সময় এলেই আমার ক্ষুধা লেগে যায়।

আমি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে মনে মনে ভাবতে লাগলাম কী খাওয়া যায়? একটু সামনে তাকাতেই চোখে পড়লো “মায়ের দোয়া চটপটি এন্ড ফুসকা”র ভ্যান। এখানে প্রতিদিন এই চটপটি ও ফুচকাওয়ালা ভাইয়া আসে। কারণ তার প্রচুর বিক্রি হয়। তারা দুইজন একসাথে কাজ করে। একার পক্ষে সব খাবার সার্ভ করা, ফুচকা বানানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

কলেজ ছুটি হলে গার্হস্থ্য অর্থনীতির মেয়েদের মতো ইডেনের মেয়েরাও এই ভাইয়ার ফুচকা খেতে আসে। কারণ তার হাতের বানানো ফুচকা বেশ মজাদার। তাছাড়া এই ভাইয়া খুব পরিপাটি ও গোছালো। তার ফুচকার ভ্যান পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থাকে সবসময়। ছুটি শেষে মেয়েরা এখানে ভীড় জমায়। তাছাড়া পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথিকেরাও খানিক জিরিয়ে ফুচকা খেয়ে যায় এখান থেকে।

এখানে বসার তেমন জায়গা নেই। কয়েকটা চেয়ার পাতা রয়েছে। তবে রাস্তার পাশে ফুটপাথে একটা কাপড় বিছিয়ে কিছু মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানেই রোজ অনেক মানুষ বসে, আড্ডা দেয়, ফুচকা ও চটপটি খায়।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমি কলেজের গেইট থেকে সামনে এগিয়ে এসে ভাইয়াকে বললাম এক প্লেট ফুচকা দিতে। তারপর একপাশে বসলাম। আমি অবশ্য ভাইয়াকে বলে কয়েকটা ছবি তুলে নিয়েছি। কারণ আমার কাজ হলো রিভিউ লেখা। যেখানে যেসব খাবার খাই, প্রতিনিয়ত তার ভালো ও মন্দ দিক সম্পর্কে লিখি। ওহ! আরেকটা কথা, ফুচকাওয়ালা ভাইয়াকে আমি আবার কখনও কখনও মামা বলেও ডাকি। কারণ হলো অন্যান্য জায়গায় “মামা” ডাকতে ডাকতে একটা অভ্যেস হয়ে গেছে।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

ফুচকাওয়ালা ফুচকা বানাতে বানাতে আমি একটু বসে জিরিয়ে নিলাম। আর রোজকার গাড়ির জ্যাম দেখলাম। আজিমপুরের এই জায়গায় রোজ জ্যাম হয়। এই জ্যাম ছাড়তে আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা লেগে যায়।

আমরা যারা আজিমপুর থেকে মোহাম্মদপুরে নিয়মিত যাতায়াত করি, তারা বুঝি কত ধানে কত চাল! আমাদের রোজ রোজ অনেক কষ্ট করতে হয়। বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, গরম সহ্য করতে হয়, জ্যাম সহ্য করতে হয়। যেদিন বাস পাই না সেদিন রিকশায় অনেক টাকা ভাড়ার জন্য খরচ করে বাড়ি ফিরতে হয়। এসব নানা জিনিস চিন্তা করতে করতে ফুচকাওয়ালা ভাইয়া ফুচকা দিয়ে গেল। আমার মনে হলো, এত তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে গেল!

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

ফুচকার পরিবেশন বেশ ভালো লেগেছে আমার। সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত ফুচকা খাওয়া শুরু করলাম। তার দোকানের ফুচকাগুলো বেশ মচমচে ও সুস্বাদু। তার ভ্যানে আলু কাটা রয়েছে, মরিচ ও অন্যান্য জিনিস কাটা রয়েছে, মজাদারভাবে ফুচকার ভেতরে যে ভর্তা দেয়, তা তৈরির জন্য। ফুচকা খেতে গিয়ে মনে হয়নি এটি আগে তৈরি করা ছিল কিংবা আলু পচে গেছে। বরং খাওয়ার সময় খুব তাজা মনে হয়েছে। ফুচকায় ঝালের পরিমান খুব বেশি হয়নি, আবার কমও হয়নি।

টকের পরিমাণ যথেষ্ট। এই টক দিয়ে প্লেটের সবগুলো ফুচকা অনায়াসে খাওয়া যায়। অবশ্য টক শেষ হয়ে গেলে আবার টক নেয়া যায়, ঝাল বেশি লাগলে নেয়া যায়। ফুচকার উপরে ডিমের ছড়াছড়ি আমার বেশ ভালো লেগেছে। ডিম না থাকলে ফুচকা ভালো লাগে না। আসলে খাবারে কোনো একটি উপাদানের কমতি থাকলে, পুরো খাবারের স্বাদ যেন নষ্ট হয়ে যায়।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমি সবগুলো ফুচকা খেলাম। ফুচকাটা বেশ ভালো লেগেছে। টকটা সাধারণ লেগেছে। কারণ তেঁতুলের মিশ্রণ ঘন লাগেনি। কোথাও কোথাও ফুচকা খেতে গেলে তেঁতুলের মিশ্রণ বেশ ঘন থাকে। একেক টকের অবশ্য একেক রকম স্বাদ থাকে। কোনোটাই আমার কাছে মন্দ লাগে না।

পরিবেশ

“মায়ের দোয়া চটপটি এন্ড ফুসকা” আজিমপুরে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সামনে ভ্যানে করে ফুটপাতের পাশে বিক্রি করা হয়। রাস্তার পাশের ফুটপাতই এর আসল ঠিকানা। পরিবেশ বলতে বলা যায়, রাস্তায় ঠিক যেমন পরিবেশ হয়, তেমন পরিবেশ বিরাজমান। কারণ এটি আলাদা কোনো দোকান নয় যে অভ্যন্তরীণ পরিবেশের কথা উল্লেখ করবো। এখানকার ফুচকাওয়ালা ভাইয়ার ব্যবহার খুব ভালো।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমি অনেকবার এখানে ফুচকা, চটপটি খেয়েছি, তাই ওনার সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানি। রাস্তার পাশে ফুটপাথে একটি কাপড় বিছিয়ে দিয়ে বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। এখানে সবাই বসে বসে আড্ডা দেয়। ফুচকা কিংবা চটপটি খায়। এখানের চটপটিও বেশ মজা। ঝাল ঝাল ফুচকা ও চটপটি খেতে কার না ভালো লাগে। আমারও ভীষণ ভালো লাগে। তাছাড়া ফুচকার ভ্যানের পরিচ্ছন্নতাকে বাহবা জানাতে হয়। সচারচর কোনো ফুচকাওয়ালার ভ্যান এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে না।

স্বাদ

ফুচকার স্বাদ আমার কাছে ভালো লেগেছে। ফুচকাগুলো বেশ মচমচে লেগেছে। তাছাড়া ভেতরের আলু, ডাল ও যা কিছু রয়েছে সবকিছুকে সতেজ মনে হয়েছে।

মূল্য

প্রতি প্লেট ফুচকা মাত্র ২০ টাকা।

অবস্থান

আজিমপুরের গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বিপরীত পাশে “মায়ের দোয়া চটপটি এন্ড ফুসকা”র ভ্যান বসে।

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ রিক্তা রিচি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here