আল–আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের ফালুদা

আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট আমাদের এলাকার মোটামুটি পরিচিত একটা রেস্টুরেন্ট। এখানের খাবারের মান অন্য হোটেলগুলোর তুলনায় ভালো। তাছাড়া লোক সমাগম হয় বেশ। হয়তো ভালো মানের খাবারের জন্য এখানে বেশি ভিড় হয়। সেদিন আমি মোবাইলের স্ক্রিন প্রটেক্টর পরিবর্তন করার জন্য শপিং মলে গেলাম। আরো কিছু কেনাকাটা করার ছিল।

তাই এক স্থান থেকে যেন সবগুলো কাজ সেরে নেয়া যায় সে কথা চিন্তা করে শপিং মলে গেলাম। যথারীতি ভাবনা অনুযায়ী কাজ করলাম। খানিকক্ষণ ঘোরাফেরা করলাম একা একা। শপিংমলে গিয়ে এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল হঠাৎ করে। গল্প জুড়ে দিলাম দু’জনেই। তারপর যে যার মতো গন্তব্যের উদ্দেশে চলে গেলাম।

আমি বাসার পথে হাঁটছিলাম। হাঁটার একটা উদ্দেশ্য আছে। আর তা হলো শরীরের ফিটনেসের কথা চিন্তা করা। আমার বাসা থেকে শপিং মলের দূরত্ব বিশ-পঁচিশ মিনিট। যাওয়ার সময় রিকশা দিয়ে গিয়েছি। তাই ফেরার পথে হেঁটে ফিরবো বলে মনঃস্থির করলাম। নয়তো দিনকে দিন আমি ভুঁড়িওয়ালী হয়ে যাবো। এমনিতেই ইদানিং একদম হাঁটা হয় না বলে অনেক মোটাসোটা ও স্বাস্থ্যবান হয়ে গিয়েছি।

দূর থেকে আল-আমিন হোটেলের বাহ্যিক চিত্র; source: লেখক

ফেরার পথে আল-আমিন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের সামনে দিয়ে ফিরছিলাম। ভাবলাম কিছু একটা খাওয়ার কথা। কী খাবো তা তখনো ভাবিনি। আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের ভেতর ঢুকলাম। তখনও সন্ধ্যা হয়নি। তবুও অনেকটাই ভিড়। এখানে সবধরনের খাবার পাওয়া যায় বলে সব শ্রেণির মানুষেরা খেতে আসে। প্রতিদিনের মতো অনেক ভিড় ছিল। আমি কোণার একটি টেবিলে বসলাম।

অভ্যন্তরীণ সজ্জা; source: লেখক

কোণার টেবিলে বসে একটু জিরিয়ে নিলাম প্রথমে। অনেক গরম লাগছিলো হেঁটে এসেছি বলে। এখানে এসেও গরম থেকে রক্ষা পেলাম না। পাশে ফ্যান চললেও কোনো কাজ হচ্ছিলো না। কারণ এসি টা সম্ভবত নষ্ট ছিল। কী আর করা। যেহেতু এসে পড়েছি তাই আর বের হলাম না। ওয়েটারকে ডেকে বললাম, কী পাওয়া যাবে এখন?

সে জানালো- ভাত, মাছ, মুরগি, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, নানরুটি, গ্রিল ইত্যাদি পাওয়া যাবে। আমি তাকে বললাম ভারি কিছু লাগবে না। হালকা কিছু আছে কিনা জানতে চাইলাম। সে সম্মতিসূচক অভিব্যক্তি প্রকাশ করলো। আমি তাকে ফালুদা আছে কিনা জিজ্ঞেস করলাম এবং সে সম্মতি দেওয়ায় ফালুদা আনতে বললাম।

আলোর ব্যবহার; source: লেখক

ফালুদা অর্ডার করার কারণ হলো- অনেকদিন ফালুদা খাওয়া হয় না। তাই ভাবলাম, এই সুযোগে খেয়ে নেয়া যায়। অর্ডার দেয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এই ফাঁকে আমি বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম। আল-আমিন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের আলোকসজ্জা, পরিবেশ, লোকসমাগম ইত্যাদির ছবি তুললাম। চারপাশটা ভালো করে দেখে নিলাম।

অভ্যন্তরে কর্মীদের ছুটে চলা এবং কাস্টমারের খাওয়া দাওয়া; source: লেখক

দেয়ালে চিত্তাকর্ষক কোনো নকশা নেই। তবে সাদা রঙ ভালোই লাগছিল। এই হোটেলটি অন্যান্য হোটেল থেকে অনেকটা মানসম্মত। চারদিকের দেয়াল স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি। ভেতর থেকে বাইরের লোকদের দেখা যায়। রাস্তায় হেঁটে যাওয়া মানুষ, গাড়ি, রিকশা, ফেরিওয়ালা সব দেখা যায়। বাইরে থেকেও ভেতরের ভোজন প্রিয় মানুষদের দেখা যায়।

ছোট দেয়াল ফ্যানের ব্যবস্থা; source: লেখক

আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের পরিবেশ মোটামুটি। ভেতরে প্রশস্ত জায়গা আছে। কাঁচের চেয়ার টেবিল গুলো সুন্দর করে সাজানো। মানুষের চলাচলের যথেষ্ট জায়গা আছে। অনেক রেস্টুরেন্টে হাঁটা চলার তেমন কোনো স্থান থাকে না। এখানে আছে। এখানে খাবার পরিবেশনকারী বেশ কয়েকজন। সবাই একই পোশাক পরা। বিষয়টা ভালোই লেগেছে আমার কাছে।

ভেতরে এসি থাকলেও এসিটা নষ্ট ছিল বিধায় অনেক গরম লাগছিলো আমার। অনেক মানুষের সমাগম হইয়েছিল দেখে হয়তো ফ্য্যানের বাতাসও কেমন যেন গরম গরম অনুভূত হচ্ছিলো। এখানের আলোকসজ্জাও মোটামুটি ভালো। সাদা আলোয় পুরো হোটেল আলোকিত। অন্যান্য রেস্টুরেন্টের মতো লাল কিংবা নীল আলোর ব্যবহার ছিল না।

ফালুদা; source: লেখক

খাবার অর্ডার দেওয়ার পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যে খাবার এসে দিয়ে গেছে। আমি তো এতক্ষণ ভেতরের পরিবেশ ও আলোকসজ্জা দেখার পাশাপাশি ফালুদার স্বাদ কেমন হতে পারে তা আগে থেকে ভেবে ফেলেছি। কেননা একবার ফার্মগেটের এক ভালো মানের রেস্টুরেন্টে ফালুদা খেয়েছিলাম। বেশ মজা লেগেছিল তখন। তাই এখানের ফালুদা নিয়েও প্রত্যাশা কম নয় আমার।

ফালুদা পরিবেশন মোটামুটি ভালো লেগেছে। খুব আশা নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। কয়েক চামচ খেতেই বুঝতে পারলাম এই মিষ্টি জিনিস এত খাওয়া যাবে না। তাছাড়া স্বাদ অতটা ভালো হয়নি।

নানা ফল ও আইসক্রিমে সাজানো ফালুদা; source: লেখক

ফালুদায় বেশ কয়েক রকমের আইস্ক্রীম, বরফ, আঙুর, ডালিম, আপেল, কলা, লাল রঙের চায়না গ্রাস, চেরি, সাগু দানা ইত্যাদি ছিল। দেখতে কী যে মিষ্টি লাগছিলো! দেখার সাথে সাথে মনে হচ্ছিলো পুরোটা গপাগপ খেয়ে ফেলতে। কিন্তু হায়! খেতে গিয়ে মনে হলো এই বাজে খাবারটা না খেলেও পারতাম। অবশ্য এখানের ফালুদার দাম মাত্র আশি টাকা।

ফালুদা কথন; source: লেখক

দাম অনুযায়ী হয়তো তারা সেরাটা দিতে চেষ্টা করেছে। তবে আমার কাছে ভালো লাগেনি। ফালুদার আইস্ক্রীম বেশি ঠাণ্ডা ছিল না। বরফের পরিমাণও কম দিয়েছে। এই গরমের মধ্যে বরফ তথা ঠাণ্ডা খাবার ও ডেজার্ট খেলে শান্তি লাগে। ফলমূলগুলো ভালো লেগেছে। তবে পুরো খাবারটা একসাথে ভালো লাগেনি। ফালুদায় মিষ্টির পরিমাণও বেশি ছিল।

 

 

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ লেখক।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here