কফি ও প্যানকেক খেতে হাজির দ্যা ওয়াইট ক্যানারি ক্যাফেতে

বার্গারের উপর আমার ভীষণ দুর্বলতা। যখনই আমাকে বলা হয় যে কোথায় খেতে যাওয়া যায় আমি দুই মিনিটও চিন্তা না করে বলে দেই যে যেখানের বার্গার খুব মজা হবে। গত ২-৩ মাসে এতই বার্গার খেয়েছি যে, তার কারণে অবশেষে মনে হলো নাহ! এবার অন্য কোনো খাবারের আইটেম ট্রাই করা যায়।

সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ডেজার্ট টাইপ আইটেম ট্রাই করবো সাথে কফি থাকলে তো কথাই নেই। যেই ভাবনা সেই কাজ। বলে রাখা ভালো, আমি বিশ্বাস করি যেখানে সেখানে গিয়ে খাবার খেয়ে ভালো না লাগার থেকে আমি এমন কোনো জায়গায় যাওয়া পছন্দ করি যার রিভিউ ভালো পাওয়া যায়, আর জায়গাটা দেখে মনে হয় যে একটা চান্স নেয়াই যায়।

এখানে আবার অনেকে মনে করতে পারেন যে এত টাকা নষ্ট করা সম্ভব না, সেখানে আমি একটু বলি যে ৫দিন একটু ডায়েট করে সেই ৫দিনের টাকা দিয়ে ৬ নম্বর দিনে ভালো কোথাও যাওয়া যায় (অবশ্যই এই পরামর্শটা তাদের জন্য যারা আমরা স্টুডেন্ট)।

বেটি কুপার কফি; source: ফেইসবুক পেইজ

আমরা সবাই ওয়াইট ক্যানারি ক্যাফের প্যানকেক নিয়ে এত শুনেছি, এত রিভিউ দেখেছি এই খাবারের যে লিস্টে এড করতেই হলো শেষ পর্যন্ত। এই রোজার ঈদের পরে ঠিক করলাম যাওয়া যায়, এখন রাস্তার জ্যাম একটু কম থাকে তাই তখন দূরে কোথাও ঘুরে আসা যেতে পারে।

শান্তিনগর থেকে ২২০টাকা দিয়ে সিএনজি ভাড়া ঠিক করে রওনা দিলাম গুলশানের ২ এর দিকে, ইউনিমার্ট থেকে সোজা গিয়ে বামেই বিএফসি এর উপরেই চোখে পড়লো লেখা “দি ওইয়াট ক্যানারি ক্যাফে”। রোডটিকে নতুন বাজার রোডও বলা হয়। তাদের ফেইসবুক পেইজ থেকে যে ঠিকানা পেয়েছি তা হল- ৪০/৮ নর্থ এভিনিউ, গুলশান ২, ১২১২ ঢাকা, বাংলাদেশ।

কফি, ডেজার্ট প্লেসগুলোর যে ব্যাপারটা আমার খুব পছন্দ তা হলো- বাইরের থেকেই একটা সুন্দর গন্ধ আসে, দুধ-কফির মিক্সড এই গন্ধতেই মন ভালো হয়ে যায়। ওয়াইট ক্যানারির বাইরেও একই ছিল। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো ছোট ছিমছাম করে সাজানো সাদার উপর ডেকোরেশান করা জায়গাটি। খুব ভিড় ছিল না, কিন্তু যা বুঝলাম প্রায় ৪০-৪৫ জনের মতন কাস্টোমারের ব্যবস্থা করা যাবে সুন্দর করে।

গেইট দিয়ে ঢুকে একটি টেবিল পার হয়েই কাউন্টার ও সেটা পেরিয়ে ভেতরে গেলে বাকি জায়গা। আর এর মাঝে ছোট-ছোট দুইটি টেবিল। ভেতরে গিয়ে বসলাম। সবার হয়তো মনে আছে, তখন বিশ্বকাপ চলছিল। এক দল এসেছিল খেলা দেখতে, সম্ভবত বেলজিয়াম এর খেলা ছিল সেদিন। কফি খেতে খেতে খেলা দেখার জন্যও জায়গাটি অনেকেরই পছন্দ হবে।

মেন্যু দিয়ে গেলো ওয়েটার। আগে থেকেই কিছুটা ঠিক করা ছিল আর কিছু নেই আর না নেই ব্লুবেরি প্যানকেক নেব। আমার সাথে আমার এক ফ্রেন্ড ছিল।যা যা নিলাম দুইজন মিলে ত হলো-

১. দ্যা ব্রুস ওয়াইয়েন

২. বেটি কুপার

৩. দ্যা ওয়াইট ক্যানারি’স সিগনেচার ব্লুবেরি বাটারমিল্ক প্যানকেকস

কাউন্টারে গিয়ে অর্ডার করতে হয় ও পে ফার্স্ট নিয়ম তাদের।

সিলেক্ট করা খাবারগুলো; source:লেখিকা

খাবারের বিবরণ

১. দ্যা ব্রুস ওয়াইয়েন

এটি ছিল মূলত একটি তিরামিসু ফ্রেপ টাইপ ড্রিঙ্ক। আমার ফ্রেন্ড নিয়েছিল এটি। তার ভাষ্যমতে, চকলেট ও ব্ল্যাক ফরেস্ট এর মধ্যে যদি কখনো কনফিউজড হয়ে যাই তাহলে যেনো তিরামিসু ফ্লেভার পিক করি। সে নাকি কখনো ঠকেনি। উপরে ক্রিম লেয়ার দিয়ে খুব সুন্দর করে পরিবেশন করা হয়েছিল। সুইটনেস এর পরিমাণও একদম পারফেক্ট ছিল।

২. বেটি কুপার

নামটি দেখেই মূলত অর্ডার দিয়েছিলাম। কারণ পড়েই ইন্টেরেস্টিং লেগেছিল। এটি মূলত একটি স্মোকড বাটারস্কচ ল্যাটে। কফিটা যখম সার্ভ করলো, তখন নামের মতন চেহারা দেখেও ইন্টারেস্টিং লাগলো। পিঙ্ক কালার কফি এই প্রথম দেখলাম। টেস্টের কথা যদি বলি, তাহলে অন্য কফির সাথে তুলনা করলে এটির টেস্ট আমার খুব আহামরি লাগেনি, কফির স্বাদ পাইনি। মনে হচ্ছিল, একটু ফ্লেভার দিয়ে দুধ দিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু।

৩. ব্লু বেরী বাটারস্কচ প্যানকেক

ওয়াইট ক্যানারি স্পেশাল এই প্যানকেকটি আসলেই অনেক স্পেশাল ছিল। যতই তারিফ করি স্বাদের ততই কম হবে, এত মজা ছিল। সার্ভ করা হয় তাদের স্পেশাল ক্রিম চিজ ও ব্লুবেরি জ্যামের সাথে। এত সুন্দর করে প্যানকেকটি কুকড ছিল নরম সাথে হালকা গরম। আপনি চাইলে এক্সট্রা আইসক্রিমও এড করে নিতে পারবেন।

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম একজনের জন্য এনাফ, কিন্তু সাথে কফি নিলে দুইজনের জন্যও এনাফ ও পেটও ভরে যাবে। এখনও মুখে স্বাদ লেগে আছে। প্রত্যেক উপাদানের স্বাদ আলাদাভাবে পাওয়া যায়। যারা ওয়াফেল ও প্যানকেক লাভার তাদের জন্য একটি মাস্ট ট্রাই আইটেম বলে আমি মনে করি।

প্যানকেক সম্পর্কে কি একটি তথ্য আপনাদের জানা আছে? অনেকেই সকালের খাবারে আমরা প্যানকেক কিংবা ফ্রেঞ্চ টোস্টের লোভ হয়তো সামলাতে পারি না, কিন্তু ভয়ে থাকি হয়তোবা মেদ-ভুঁড়ি বেড়ে যাবে এই ব্যাপার নিয়ে। কিন্তু এগুলো হলো আঁশযুক্ত খাবার যার ফলে কোনো ধরনের চিন্তা ছাড়াই আপনি এগুলো খেতে পারবেন।

ব্লুবেরি প্যানকেক; source: ফেইসবুক পেইজ

দাম ও রেটিং

১. দ্যা ব্রুস ওয়াইয়েন

দাম: ৩২০টাকা

রেটিং: ৯/১০

২. বেটি কুপার:

দাম: ৩৫০টাকা

রেটিং: ৭/১০

৩. ব্লুবেরি বাটারমিল্ক প্যানকেক:

দাম: ৪২৫টাকা

রেটিং: ১০/১০

পিজ্জা; source: ফেইসবুক পেইজ

বলে রাখি, মেইন দামের সাথে ১০% এক্সট্রা সার্ভিস চার্জ ও ১৫% ভ্যাট এড হবে। অনেকের কাছেই এই ব্যাপারটির জন্য জায়গাটি ওভার প্রাইজড মনে হতে পারে। দ্যা ওয়াইট ক্যানারি ক্যাফের মতন প্লেসগুলো হয়তো প্রতিদিন যাওয়ার মতন না, কিন্তু একবার যাওয়াই যায়।

আর কেও যদি মনে করেন যে এখানে শুধু ডেজার্ট আর কফি আইটেমই পাওয়া যায় এজন্য যাওয়া যাবে না, তাদের জন্য বলে দিচ্ছি চিন্তা নেই কারণ কফি, প্যানকেকের সাথে তাদের মেন্যুতে পিজ্জা, সালাদ ও স্যান্ডউইচ, পাস্তাও আছে। পরেরবার যেদিন আমি আবার যাবো, সেদিন তাদের একটি ক্লাসিক ফ্রেঞ্চ টোস্ট আছে, যার অনেক রিভিউ পেয়েছি সেটি ট্রাই করতে যাবো বলে ইচ্ছা আছে। খাওয়া-দাওয়া করে যে কয়দিন বাঁচা যায়, তাই না? ভালো থাকবেন সবাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here