“ক্লাউড ফ্লেম”এর সুস্বাদু স্টেকের সেট মেন্যু

স্টেক হচ্ছে একধরনের হাড়সহ কাটা ও ভাজা মাংসের ফালি। সাধারণত পাঁজরের পাশ থেকে কেটে নেয়া হয় স্টেকের মাংস। ভেজে অথবা রান্না করেও বানানো যায় স্টেক। এটি খুবই সুস্বাদু একটি মাংস দিয়ে তৈরি খাবার। স্টেক আমার খুব পছন্দেরও। বাসায় রান্না করে খেতে মন না চাইলে কখনও কখনও বাইরে থেকে খেয়ে আসি স্টেক। সেদিন খেলাম খিলগাঁওয়ের “Cloud Flame”এর চিকেন স্টেকের সেট মেন্যু। এই মেন্যুটা নিয়েই লিখবো আজ।

কুরবানি ইদের সময় হওয়াতে, চারদিকেই এখন শুধু গরুর মাংসের ঘ্রাণ। গরুর মাংস খুব প্রিয় হলেও টানা কিছু দিন খেলে তো যেকোনো কিছুই আর খেতে ভালো লাগে না। তাই মনে হয়েছিলো, গরুর মাংস রেখে একটু মুরগির মাংসই নাহয় খেয়ে আসি বাইরে থেকে। সেজন্যেই মূলত খেতে যাওয়া।

চিকেন স্টেক; Source: লেখিকা

বাসার কাছাকাছি হওয়াতে খিলগাঁওয়েই খেতে যাই বেশিরভাগ সময়। সেদিনও খিলগাঁওতেই গিয়েছিলাম। রামপুরা হয়ে এসে খিলগাঁও ঢুকলে চৌধুরীপাড়ার শুরুর দিকেই “Cloud Flame” নামের নান্দনিক রেস্টুরেন্টটি। আগেই শুনেছিলাম, এখানের চিকেন স্টেক বেশ মজার। তাই এতকিছু না ভেবেই সেখানেই যাই৷ মুরগিও খাওয়া হলো, একই সাথে স্টেকও। ঠিক যেন এক ঢিলে দুই পাখি।

“Cloud Flame”এ এটাই ছিলো আমার প্রথমবার যাওয়া। ভেতরে ঢুকেই বেশ ভালো লাগে ইন্টেরিওর দেখে। সাদাটে দেয়ালে সুন্দর সুন্দর ছবি বাঁধাই করে ঝোলানো একেক পর এক। এক পাশের দেয়ালে ইটের মতো নকশা করা। রেস্টুরেন্ট হলেও “Cloud Flame”এর ইন্টেরিওর দেখে আপনার জায়গাটিকে কফি শপও মনে হতে পারে। এই ব্যাপারটা ভালো লাগে বেশি আমার।

ইন্টেরিওর; Source: লেখিকা

রেস্টুরেন্টে ভালোই ভিড় ছিলো। ভেতর দিকের সবগুলো টেবিলে লোকজন ছিলো। সামনের দিকে একটা খালি টেবিল পেয়ে সেখানেই বসে পড়ি। বসে মেন্যু দেখতে দেখতেই ওয়েটার চলে আসে। চিকেনের বেশ কিছু মেন্যু দেখে ফ্রাইড রাইস, ভেজিটেবল আর চিকেন স্টেকের সেট মেন্যুটাই পছন্দ হয়। অর্ডার করে দিয়ে রেস্টুরেন্টের ছবি তুলে নিই কিছু।

অপেক্ষা করতে হয়েছিলো অনেকক্ষণ। প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো সময়। বিরক্তি চলে এসেছিলো একরকম। যদিও জানতাম, স্টেক বানাতে একটু সময় লাগবেই। তবুও খাবার অর্ডার করে এতটা সময় বসে থাকা যায় না। ওয়েটারকে ডেকে জিজ্ঞেস করায়, সে আরেকটু অপেক্ষা করতে বলে। খাবার মোটামুটি তৈরি করে ফেলেছে জানায়। মিনিট পাঁচেক পর দিয়ে যাবে। তাই আবার সেই অপেক্ষা।

খাবারের জন্য অপেক্ষা; Source: লেখিকা

অবশেষে অপেক্ষা শেষ হলো। ওয়েটার এসে খাবার দিয়ে যায়। আসলে খাবারটা দেখেই এতক্ষণের বিরক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছিলো। সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা ফ্রাইড রাইস, পাশে রঙিন ভেজিটেবল আর মেয়োনেজের সস দিয়ে রাখা এক টুকরো স্টেক। দেখলেই জিভে জল চলে আসবে যে কারো। খাবার দেখার পর রিভিউ লেখার জন্য ছবি যে তুলবো, তার তরও সইছিল না। কিন্তু ছবি তো তুলতেই হবে, তাই দ্রুত কয়েকটা ছবি তুলেই নিলাম।

ছবি তোলা শেষ করেই ঝাপিয়ে পড়লাম প্লেটের উপর। এরআগে অনেকটা সময় না খাওয়া ছিলাম। তাই ক্ষুধাও ছিলো প্রচণ্ড। প্রথমেই আমার নজর গেলো সসটার দিকেই। মাংসের উপর দিয়ে দেয়া মেয়োনেজের সস। আমি মেয়োনেজ খুবই পছন্দ করি। সসটা ছিলো অসাধারণ। পুরো খাবারেই আমার বেশি পছন্দের ছিলো সসটাই। কিছু না খেয়েই কিছুটা সস খেয়ে নিলাম। সবটা শেষ করে ফেললে স্টেক খাওয়ার জন্য সস থাকবে না মনে হতেই রাইসের দিকে নজর দিলাম।

রেস্টুরেন্টের সাজসজ্জা; Source: লেখিকা

ফ্রাইড রাইসটাও যথেষ্ট মজার ছিলো। গাজর, ক্যাপসিকাম, ডিম ইত্যাদি দেয়া ছিলো। বেশ ঝরঝরে ছিলো, গলানো হলে ফ্রাইড রাইসটা খেতে ভালো লাগে না একদমই। খেতে ভালো লেগেছে আমার সব মিলিয়ে। তবে পরিমাণে কম ছিলো অনেকটাই৷ এটুকুতে অনেকেরই পেট ভরবে না।

ফ্রাইড রাইস; Source: লেখিকা

ভেজিটেবল যতটা মজার ছিলো খেতে, তার থেকে বেশি সুন্দর ছিলো দেখতে। গাজর, বরকটি, ফুলকপি, ক্যাপসিয়াম আর পেঁয়াজ ছিলো লম্বা লম্বা করে কেটে সুন্দর করে ভাজা। একটার সাথে আরেকটা লেগে যায়নি। অল্প তেল ও লবণে ভাজা থাকায় খেতে ভালোই লেগেছিলো। যদিও আমি ভেজিটেবল তেমন পছন্দ করি না, তাও খেয়েছিলাম পুরোটাই।

ভেজিটেবল; Source: লেখিকা

এরপর আসি স্টেকের কথায়। স্টেকের কথার সাথে আবার আমার সেই পছন্দের সস তো আছেই। মাংসের পিসটা মোটামুটি বড় ছিলো। ভালোভাবে ভাজা এক পিস স্টেক। তারপর আবার অনেকদিন পর আমার মুরগির মাংস খাওয়া। স্টেকটা মসলা আর সস দিয়ে ভাজা ছিলো। একটু স্মোকি ফ্লেভারও ছিলো তাতে। স্টেকের ওপরে সেই মেয়োনেজের সসটা দিয়ে সাজানো ছিলো। তাতে দুই টুকরো মাশরুমও পেয়েছিলাম।

মজাদার স্টেকটি; Source: লেখিকা

চিকেন স্টেক খেতে চাইলে চলে যেতে পারেন “Cloud Flame”এ। স্টেক ছাড়াও সেখানে পিজ্জা, পাস্তা, বার্গার, নুডুলস, চাওমিন, স্যুপ, সালাদ, রেগুলার সেট মেন্যু, ডেজার্ট, কফি, জুস ইত্যাদি খাবার রয়েছে। পরিবার, সঙ্গী বা বন্ধু যে কাউকে নিয়ে কতটুকু ভালো সময় কাটিয়ে আসতে পারেন যেকোনো দিন।

চিকেন স্টেক সেট মেন্যু- ৮/১০

স্টেকের সেট মেন্যুটার দাম ছিলো ৩৫৫টাকা + ১৫% ভ্যাট। রেস্টুরেন্টটায় এই মেন্যুটার নাম “Flame Lovers Chicken”। ভ্যাটসহ দাম দেয়ার সময় অবশ্যই মুসকের কাগজটা চেয়ে নেবেন। আমরা চাওয়াতে মুসকের কাগজটা দিয়েছিলো।

রেস্টুরেন্টের পরিবেশটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। সাজানো, গোছানো আর বেশ ছিমছাম। মানুষের আসা যাওয়া লেগে থাকলেও হই-হুল্লোড় ছিলো না একদমই।

Cloud Flame; Source: লেখিকা

খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া ৩৯৯/বি রোডের ১২১৯ নাম্বার দোকানটিই হচ্ছে ” Cloud Flame”। ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে খুব সহজেই আসা যায়।

আপনারা যদি খেতে যেতে চান তাই পুরো মেন্যু কার্ডটির ছবি তুলে নিয়ে এসেছিলাম আমি। ছবিগুলো দিয়ে দিলাম। যেতে চাইলে গিয়ে কী খাবেন আর বাজেটের সাথে মেলাতে সুবিধা হবে।

 

মেন্যু কার্ড; Source: লেখিকা

 

মেন্যু কার্ড; Source: লেখিকা

 

Feature Image: লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here