খাবারের খোঁজে মুনলাইট কিচেনে

ঈদের দ্বিতীয় দিন এক বন্ধুকে ট্রিট দেবো বলেছিলাম। তাকে বাসায় আসার জন্য অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু সে আসবে না বলে জানিয়েছে। তাকে ট্রিট দিতে হবে বাইরের কোনো একটি রেস্টুরেন্টে। তাই ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর বেলা তাকে ট্রিট দেবো বলে আগে থেকে সময় নির্ধারণ করলাম। সেদিন আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে বাসা থেকে বের হলাম। শিয়া মসজিদের সামনে নবাবী ভোজের নিচে দাঁড়ালাম। তার আসার অপেক্ষা করছিলাম।

যদিও শ্যামলি স্কয়ারে যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো, বন্ধ থাকায় সেখানে যাওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি মোহাম্মদপুরের কোনো একটি রেস্টুরেন্টে বসবো। যেহেতু আমি নবাবী ভোজের নিচে খানিক সময় ধরে অপেক্ষা করেছি, ভেবেছিলাম নবাবী ভোজে গিয়ে বসবো। কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি। ঈদ উপলক্ষ্যে নবাবী ভোজ বন্ধ। নিচে কর্তব্যরত এক গার্ডকে জিজ্ঞাসা করে এটি জানতে পারলাম।

বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম, আর মনে মনে ভাবছিলাম কোথায় যাবো? কারণ ঈদ উপলক্ষ্যে অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট বন্ধ। তাছাড়া প্রায় দুটো-আড়াইটে বেজে গেছে। ধানমণ্ডি যাওয়া বা মোহাম্মদপুরের বাইরে কোথাও যাওয়া ও ফিরে আসা সময়ের ব্যাপার। তাছাড়া কোন রেস্টুরেন্ট খোলা রয়েছে সে সম্পর্কে তো জানা নেই। তাই আর ওদিকে যাইনি। হঠাৎ মনে হলো, আদাবরের ক্যাফে বৃত্ততে গেলে কেমন হয়?

এসব ভাবতে ভাবতে আমার বন্ধু চলে এসেছে। তাকে শুভেচ্ছা জানালাম। তারপর নবাবী ভোজ বন্ধ সেই খবর জানালাম। তাকে নিয়ে একটা রিকশায় ওঠে ক্যাফে বৃত্ততে গেলাম। কিন্তু হায়! ক্যাফে বৃত্তও বন্ধ।

আমরা আবার রিকশা নিলাম নূরজাহান রোডের উদ্দেশে। কারণ ওদিকটায় অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। নূরজাহান রোডে যেতেই দেখতে পেলাম মুনলাইট কিচেন খোলা রয়েছে। আমরা আর কোনো বিকল্প চিন্তা না করে সেখানে ঢুকে পড়লাম। মুনলাইট কিচেনের নিচ থেকে বোঝা যায় না দোতলায় রেস্টুরেন্ট রয়েছে। বাসা বাড়ির মতো মনে হয়। আমরা দোতলায় গেলাম, রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই দেখতে পেলাম শুধু কর্মী ছাড়া কেউ নেই। পুরো রেস্টুরেন্ট ফাঁকা। অবশ্য কুরবানির ঈদ বলে কথা।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

মুনলাইট কিচেনে আগেও একবার এসেছিলাম। তখন মাত্র নতুন হয়েছে এটি। সেদিন সবকিছুই আমার ভালো লেগেছিল। আজও রেস্টুরেন্টের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা আমার ভালো লেগেছে। দেয়ালে রঙের ব্যবহার, আসন বিন্যাস, আলোকসজ্জা, প্রশস্থ জায়গা; সবকিছুই বেশ ভালো।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

তাদের লাইটগুলো খুব সুন্দর। তাছাড়া একপাশে স্বচ্ছ কাঁচের দেয়াল থাকায়, রাস্তার মানুষজন দেখা যায়। বাইরের গাছপালা দেখা যায়। আমি নিশ্চিত যে, এখান থেকে বৃষ্টি দেখতে ভালো লাগবে।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

আমরা কিছুক্ষণ বসার পর একজন ওয়েটারকে ডাকলাম। সে মেন্যু দিয়ে গেল। মেন্যুটা ভালোভাবে দেখলাম। যেহেতু দুপুর, সেহেতু সেট মেন্যু ছাড়া অন্য কোনো খাবার খেলে ভালো লাগবে না। তাই বার্গার ও অন্য আইটেমকে এড়িয়ে সেট মেন্যুর দিকে নজর দিলাম। বেশ কয়েকটি আইটেম দেখতে পেলাম। সেট মেন্যুর তিনটি আইটেম ছিল। প্রথমটিতে ফ্রায়েড রাইস, ভেজিটেবলস ও ফ্রায়েড চিকেন রয়েছে। দ্বিতীয়টিতে কী রয়েছে তা অতটা খেয়াল করিনি। তৃতীয়টিতে রয়েছে ফ্রায়েড রাইস, চিকেন, ভেজিটেবলস এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। আমি কোনো কিছু খেয়াল না করে প্রথম এবং তৃতীয় আইটেমটি অর্ডার করলাম।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

খাবার অর্ডার করার পর বেশকিছু ছবি তুললাম। অভ্যন্তরীণ সজ্জা, আলোকসজ্জার কয়েকটি ছবি তুললাম। তারপর খাবার চলে এলো। অবশ্য প্রথমে চামচের প্লেট দিয়ে গেল। তারপর ড্রিঙ্কস দিয়ে গেল। তার কিছুক্ষণ পর খাবার নিয়ে এলো। খাবারের পরিবেশন ভালো লেগেছে।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

তবে খাবার দেখে আমরা পুরা থ হয়ে গিয়েছিলাম। খাবারের পরিমাণ খুব অল্প ছিল। চিকেনটা দেখতে খুব ক্রিস্পি লাগছিলো। তবে তিন নম্বর আইটেমটি আমি খেয়াল না করে অর্ডার করা উচিত হয়নি। ফ্রায়েড রাইস, চিকেন, ভেজিটেবলসের সাথে যাস্ট একটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই! মনে হয়েছে অযথা টাকা নষ্ট করতে আসলাম।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

খাবারের স্বাদ তেমন ভালো লাগেনি। আগে যখন এখানে খেয়েছি, তখন খুব ভালো লেগেছিলো। তাইতো যখন রেস্টুরেন্ট খোলা পেলাম, তড়িঘড়ি করে ঢুকে পড়লাম। ফ্রায়েড রাইস, ভেজিটেবলস ঠাণ্ডা ছিল। তাছাড়া খাবার খাওয়ার সময় মনে হয়নি ফ্রেশ খাবার খাচ্ছি।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

বোধহয় আগে রান্না করে রেখেছিল। তারপরেও আমরা কোনো কিছু জানাইনি , অভিযোগ করিনি।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

ফ্রায়েড চিকেনটা আমার ভালো লাগলেও পুরোটা শেষ করতে পারিনি। আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এর কথা কী আর বলবো। এর স্বাদ ঠিক ছিলো। তবে যাইহোক খাবার খেয়ে আমার পরিতৃপ্তি পাইনি। বরং মনে হয়েছে এখানে না এসে অন্য কোথাও গেলে ভালো হতো।

অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও পরিবেশ

মুনলাইট কিচেনের আসন বিন্যাস আমার ভালো লেগেছে। তাছাড়া কর্মীদের ব্যবহারও ভালো। দেয়ালে রঙের ব্যবহার সুন্দর। বাড়তি আড়ম্বরতা পাইনি, গাম্ভীর্যতা পাইনি। সাধারণের মাঝেও সুন্দর ও পরিপাটি। সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই রেস্টুরেন্টটি পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া একপাশের স্বচ্ছ কাঁচের দেয়াল আমার ভালো লেগেছে।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি

আলোকসজ্জা তথা কৃত্রিম আলোর ব্যবহারের জন্য যেসব বাতি ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো বেশ সুন্দর। তাছাড়া শীতাতপ ব্যবস্থা রয়েছে। এই রেস্টুরেন্টের পরিবেশ আমার ভালো লেগেছে। খুব ঘিঞ্জি নয়। প্রশস্থ জায়গা রয়েছে ভেতরে। এখানে যেকোনো জন্মদিন বা অন্য কোনো প্রোগ্রামের আয়োজনও করা যাবে খুব সুন্দরভাবে।

খাবারের স্বাদ

খাবারের স্বাদ আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে। আহামরি ভালো লাগেনি খাবারটা। তাছাড়া শুধু ফ্রায়েড রাইস, চিকেন, ভেজিটেবলস, ড্রিঙ্কসের মূল্য মাত্র ১৮০ টাকা, আর এরসাথে শুধুমাত্র একটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই জুড়ে দিয়ে দাম বানালো ২৫০ টাকা! এটি ভালো লাগেনি আমার।

তিন নম্বর সেট মেন্যুর আইটেমে স্রেফ অতিরিক্ত একটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আইটেম থাকায় দাম রেখেছে ২৫০ টাকা। তাও আবার খাবারের স্বাদ ও পরিমাণ কোনোটাই সন্তোষজনক ছিল না।

মূল্য

সেট মেন্যু নম্বর ১= ১৮০ টাকা

সেট মেন্যু নম্বর ৩= ২৫০ টাকা।

আমাদের মোট বিল এসেছে ৪৩০ টাকা।

অবস্থান

নুরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর। মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে অবস্থিত।

ফিচার ইমেজ সোর্স: রিক্তা রিচি।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here