‘চাপ-কা-বাব’এর গরুর চাপ ও লুচি পরোটা

গরম গরম লুচি সাথে গরুর মাংস কিংবা মুরগির মাংসের চাপ, কাবাব! আহা, ভাবতেই জিভে জল চলে আসে। এই খাবারটি বেশ প্রিয় আমার। প্রায়ই এই খাবারটি খেয়ে থাকি।

বাড়ির আশেপাশে অসংখ্য খাবারের দোকান রয়েছে। বড় বড় রেস্টুরেন্ট ও খাবার হোটেলের পাশাপাশি ছোটো ছোটো দোকান ও স্ট্রিট ফুড ভ্যানেও পাওয়া যায় মজাদার অনেক খাবার। বিশেষ করে এসব জায়গার লুচি ও মাংসের কাবাব বেশিই মজাদার হয় (বার্গার ও চাওমিনও মন্দ নয়)।

এলাকায় হাঁটার সময় অলিগলির খাবারের দোকানগুলোতে মোটামুটি চোখ রাখা হয় আমার। এবার চোখে পড়লো নতুন একটি খাবারের দোকানে। বেশ ছোটো একটি খাবারের দোকান এটি। দেখতে অনেকটা ছোটোখাটো হলুদ বাক্সের মতোই লাগে। তবে আলাদা করে চোখে পড়ার কারণ এর আলাদা নামটি, ‘চাপ-কা-বাব’।

চাপ-কা-বাব দোকানটি; source: চাপ-কা-বাব

এই খাবারের দোকানটি এর আগে কখনো চোখে পড়েনি। আকৃতিতে দোকানটি বেশ ছোটো। তবে নামটি দেখে আগ্রহবোধ করলাম। সামনে রাখা ছোট্ট রান্না করার জায়গা ও তার উপর ঝুলে থাকা খাবারের তালিকায় কয়েক সেকেন্ড চোখ বুলিয়ে ঢুকে পড়লাম ভেতরে।

ভেতরে জায়গা বেশ কম। তাতেই ৮ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে কোনোমতোে। চেয়ার, টেবিল সবই বেশ ছোটো আকৃতির। তবে আমার চোখে লাগা এই হলুদ বাক্সের ভেতরের ডিজাইন মোটামুটি সুন্দর। আহামরি ধাঁচের না হলেও বেশ চকচকে রঙের ব্যবহার ভেতরটাকে বেশ আলোকিত করে রেখেছে।

ছোট্ট মেন্যুতে চোখ বুলিয়ে দেখলাম লুচির পাশাপাশি আরো অনেক লোভনীয় খাবারের নাম। গরুর চাপ, গরুর বটি, চিকেন ফ্রাই চাপ, চিকেন বোনলেস, মুরগির গিলা-কলিজা, গরুর মগজ ফ্রাই, মুরগির বটি, কোয়েল পাখির চাপ, টিকা কাবাব প্রত্যেকটা খাবারের নামই টানছিলো খুব। মেন্যুতে উল্লেখ করা খাবারের দামও বেশ কম।

লুচি পরোটা ও গরুর মগজ ফ্রাই; source: চাপ-কা-বাব

মেন্যুতে চোখ বুলিয়ে কিছুক্ষণ ভাবাভাবির পর, গরুর মগজ ফ্রাই অর্ডার করতে চাইলাম। তবে এখানে হতাশ হতে হলো। তারা জানালেন, কিছুক্ষণ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে গরুর মগজ ফ্রাই। এই খাবারটির চাহিদা নাকি এখানে সবচেয়ে বেশি। আগে এসে অন্য কোনোদিন চেখে দেখবো ভেবে রাখলাম।

গরুর মগজ ফ্রাই না পেয়ে অতঃপর অর্ডার করলাম এখানকার গরুর চাপ ও লুচি পরোটা। অর্ডার করার পর ছোট্ট দোকানটিতে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো, খাবার তৈরি হয়ে আসার জন্য। সন্ধ্যার পর পর হওয়ায় ততক্ষণে বেশ ভিড় হতে শুরু করলো। যেহেতু ভেতরের জায়গা ছোটো, ৮ জন মাত্র বসতে পারে তাই অনেককে বাহিরে বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হলো।

বাহিরে বলতে দোকানের সামনের রাস্তার অংশে। ওখানে চেয়ার ও টেবিল বসিয়ে বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিলো বাকিদের।

চাপ-কা-বাবের মজাদার খাবার; source: চাপ-কা-বাব

ভেতরটা যেমন ছোটো তেমনি বাহিরের বাতাস ঢোকার জায়গা নেই, তাছাড়া রান্না করার জায়গাটিও কাছাকাছি তাই মাথার উপর ফ্যান চলা সত্ত্বেও বেশ গরম লাগছিলো। ১০ মিনিটের মতো অপেক্ষা করার পর চলে এলো আমাদের অর্ডার করা গরম গরম লুচি পরোটা ও গরম গরম গরুর চাপ। সাথে বোনাস হিসেবে এলো কিছু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও সালাদ। দেখেই বেশ শান্তি লাগছিলো। গরুর চাপের ভেতরের মসলার ঘ্রাণ সেই শান্তিকে আরো বাড়িয়ে তুললো।

গরম গরম লুচি পরোটার অংশ নিয়ে, তাতে গরুর চাপের টুকরো দিয়ে একটু সালাদ মিশিয়ে মুখে দিতে সে শান্তি আরো বহুগুণ বেড়ে গেলো সাথে মুচমুচে, মসলাদার ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আরো বেশি ভালো লাগলো। সালাদের স্বাদটাও বেশ ছিলো খেতে।

খাবারের স্বাদ

মজাদার লুচি পরোটা ও গরুর চাপ; source: লেখিকা

গরুর চাপ বেশ মজাদার ছিলো। আকারেও বেশ ভালো। চাপের গরুর মাংস বেশ ভালোভাবে সেদ্ধ হয়েছে এবং পুরো মাংসের অংশে বেশ ভালোভাবেই মিশেছে মসলাগুলো। এজন্যই খেতে বেশ ভালো লেগেছে।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাইগুলোও খেতে বেশ মজা ছিলো। বেশ মুচমুচে। আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের উপরে কিছু মসলা ছড়িয়ে ছিলো, যা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের স্বাদ আরো বাড়িয়েছে। মসলার জন্য খেতে কিছুটা আলাদাও লাগছিল।

গরম গরম লুচি পরোটাগুলো খুব একটা ফুলে যায়নি ভেতরে। সাধারণ স্বাদে। তবে খুব একটা খারাপ লাগেনি। সালাদের স্বাদ অনেক বেশিই ভালো ছিলো। পুরো খাবারের স্বাদ সালাদই যেন বাড়িয়ে তুলেছিলো অনেক বেশি।

রেটিং

গরুর চাপ- ১০/৮
লুচি পরোটা- ১০/৬
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই- ১০/৮
সালাদ- ১০/৭

খাবারের মূল্য

খাবারের মেন্যু; source: লেখিকা

খাবারের মূল্য আমার কাছে বেশ কম লেগেছে। গরুর চাপ হাফ ৬০ টাকা, ফুল ১০০ টাকা। পরিমাণে বেশ ভালো থাকে।

লুচি পরোটার মূল্য ৫ টাকা (প্রতি পিস)। এটি আকারে খুব বেশি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো না যদিও। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও সালাদ বোনাস হিসেবে পাওয়া (যদিও সব জায়গাতেই সালাদ পাওয়া যায়, তবে স্বাদের দিক থেকে বোনাসই ধরা যায়), তাই এর কোনো দাম লাগেনি।

একটি ফুল গরুর চাপ ও ৮টি লুচি পরোটা বাবদ আমাদের খরচ করতে হয়েছিলো ১৪০ টাকা। অল্প খরচে দারুণ খাবার। পেট ও মনের পাশাপাশি পকেটেরও একটু খেয়াল রাখা হলো। (হতাশার বিষয় এখানে কোনো ড্রিংকস পাওয়া যায় না)।

অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা ও পরিবেশ

খুব ছোট্ট একটি দোকান। ভেতরে জায়গা খুবই কম। সরু এই জায়গাটিতে ৮ জনের বসার সুযোগ আছে। সাজ-সজ্জা সাধারণ। দেয়ালে গাঢ় রঙের ব্যবহার দেখতে ভালো লাগে। যথেষ্ট আলো ঝলমলে ভেতরটা। তবে পরিবেশ গুমোট থাকে ছোটো জায়গার জন্য। আর বেশ গরমও।

সার্ভিস

সার্ভিস সন্তুষ্ট হওয়ার মতো। তারা সকলেই বেশ বিনয়ী।

লোকেশন

দক্ষিণ বনশ্রী, ১০ নম্বর বাড়ি। ব্লক- কে। দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোড, শাপলা বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি ছোট্ট এই দোকানটি। হলুদ রঙের আলো ঝলমলে দোকানটি ছোট্ট হলেও চোখে পড়বে সহজেই, তাই শাপলা বিল্ডিঙের কাছাকাছি গেলে খুঁজে বের করা কঠিন হবে না।

ফিচার ইমেজ- লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here