টাইকিং রেস্টুরেন্টের স্পেশাল টাইকিং চাওমিন

জন্মদিন ১লা সেপ্টেম্বরে বিদায় নিলেও ‘বার্থডে মাস’ বলে একটা কথা আছে। এর মানে সারামাস জুড়ে যখন-তখন গিফট পাওয়া হবে, সাথে প্রায়ই সম্মুখীন হতে হবে ‘ট্রিট’ নামক আক্রমণের। এবারের ট্রিট দেয়ার পালা এক সহকর্মীকে। অফিস শেষে দু’জনেই বের হয়ে গেলাম বাড্ডার টাইকিং থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টের উদেশে।

বাড্ডার টাইকিং থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টটি আমার সহকর্মীর বেশ প্রিয় একটি জায়গা। যদিও আমি এরআগে কখনো আসিনি এই রেস্টুরেন্টটিতে। এটি মূলত একটি পার্টি সেন্টার। এমন বিশাল জায়গায় বসে খেতে আমার কিছুটা অস্বস্তি লাগে।

টাইকিং থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টের ভেতরের অংশ; source: লেখিকা

আমরা যখন গিয়েছি, তখন ভেতরটা পুরোপুরি ফাঁকা। বিশাল রেস্টুরেন্টটিতে ছড়ানো রয়েছে বসার আসন। ভেতরের সাজ-সজ্জায় সবুজ আলোর ব্যবহার জায়গাটিতে আলো-আঁধারী তৈরি করেছে। বাইরের কিছুই দেখা যায় না এখান থেকে। অনেকটা গুমোট পরিবেশ।

আপা তার পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রায়ই আসেন এই রেস্টুরেন্টটিতে। তিনি জানালেন, এখানকার খাবারের মান বেশ ভালো। দামও অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চেয়ে তুলনামূলক কম। আর তাছাড়া, এখানে খাওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া পরিবেশও পাওয়া যায়।

টাইকিং থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টের আলোকসজ্জা; source: লেখিকা

এই রেস্টুরেন্টটির প্রত্যেকটি খাবারের আইটেমই ১:৩, অর্থাৎ সব খাবারই ৩ জন মানুষের জন্য। তবে আমরা ২ জন বলে বিড়ম্বনায় পড়লাম, তার উপর দু’জনের খাওয়ার চাহিদা কম। তবুও বেশি ভাবনায় না গিয়ে অর্ডার করায় মন দিলাম। আপা জানালেন, এখানকার স্পেশাল টাইকিং চাওমিন ট্রাই করে দেখতে। যেহেতু চাওমিন আমার বেশ পছন্দ আর এখানকার চাওমিন বেশ মজাদারও।

অর্ডার করলাম এখানকার স্পেশাল টাইকিং চাওমিন আর ড্রিঙ্কস হিসেবে কোক। এখানে ড্রিঙ্কসে খুব বেশি বৈচিত্র নেই। ওয়েটার জানিয়ে গেলেন, খাবার তৈরি হয়ে আসতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগবে। তারা অর্ডার পাওয়ার পর রান্না করেন।

রেস্টুরেন্টটির বসার ব্যবস্থা; source: লেখিকা

কথামতো ১৫ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে এলো এখানকার স্পেশাল টাইকিং চাওমিন। খাবারের পরিমাণ দেখে আমাদের দু’জনের অবস্থাই খারাপ। ১:৩ হলেও এই চাওমিন দিয়ে ৪/৫ জন মানুষ অনায়াসে বিকেলের নাস্তা সেরে নিতে পারবে।

খাবার সামনে এলে আমার অভ্যাস খাবারটিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা। কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে খাবারটি তৈরিতে, খাবারটির রং কেমন হলো, ঘ্রাণ কেমন আছে, পরিবেশন আরো কতটা সুন্দর হতে পারতো ইত্যাদি। সেই মোতাবেক এই স্পেশাল টাইকিং চাওমিনেও গভীর মনোযোগে চোখ বুলিয়ে নিলাম খাওয়া শুরু করার আগেই।

রেস্টুরেন্টটির স্পেশাল টাইকিং চাওমিন; source: লেখিকা

দেখতে বেশ সাধারণ (অনেকটা কালারফুল হলেও খুব বেশি আহামরি ধাঁচের নয় দেখতে) এই স্পেশাল টাইকিং চাওমিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে নুডুলস, ক্যাপসিকাম, আরো বিভিন্ন রকম সবজি, চিকেন, প্রন, ডিম ও কিছু মসলা। (নিজেদের যতটুকু খাওয়া সম্ভব প্লেটে তুলে বাকিটা পার্সেল করে দিতে বললাম)। খাওয়া শুরু করতেই মিল পেলাম আপার কথার সাথে। এখানকার চাওমিন আসলেই বেশ মজাদার।

গুমোট পরিবেশ আমার ভালোলাগে না বলে রেস্টুরেন্টটিতে বসতে অস্বস্তি লাগছিলো। তাছাড়া সবুজ আলোর ব্যবহার জায়গাটিকে আরো বেশিই গুমোট করে রেখেছে। জায়গাটি বসার জন্য পছন্দ না হলেও এখানকার খাবার নিয়ে সন্তুষ্টই হতে হলো।

খাবারের স্বাদ

স্পেশাল টাইকিং চাওমিন; source: লেখিকা

স্পেশাল টাইকিং চাওমিন আসলেই স্পেশাল ছিলো। চাওমিনের নুডুলস বেশ ভালোভাবে সেদ্ধ করা। তাছাড়া প্রন থেকেও আলাদা কোনো গন্ধ আসেনি (যেটা অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়)। মুরগির মাংস ও ডিমের পরিমাণও বেশ ভালো ছিলো।

ক্যাপসিকাম বেশ বড় বড় করে কাটা হলেও ভালো লাগছিলো খেতে। ভালোভাবে সেদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মসলাও ঢুকেছে ভেতরে। বাকি সবজিগুলোও এমনই। তাই সব মিলিয়ে খেতে বেশ মজাদার ছিলো।

খাবারের স্বাদের রেটিং

স্পেশাল টাইকিং চাওমিন: ৮.৫/১০

খাবারের মূল্য

বেশ মজাদার স্পেশাল টাইকিং চাওমিন; source: লেখিকা

১:৩ এই স্পেশাল চিকেন চাওমিনের দাম মাত্র ৩২০ টাকা। খাবারের পরিমাণ ও স্বাদ অনুযায়ী দাম যে অনেক কম, এটি মানতেই হয়। আর পরিমাণে এতোই বেশি ছিলো যে, এই চাওমিন ৩ জন না, তারও বেশি মানুষ খেতে পারবে। আর পেটও ভরবে।

১টি স্পেশাল টাইকিং চাওমিন, ২টি কোক ও পানি বাবদ টাইকিং থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আমাদের খরচ করতে হয়েছে ৩৮০ টাকা। সেক্ষেত্রে আমার উপর থেকে যাওয়া এবারের ট্রিট আক্রমণ মোটামুটি বাঁচিয়ে দিয়েছে বলাই যায়!

পরিবেশ ও সাজ-সজ্জা

টাইকিং থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টের পরিবেশ; source: লেখিকা

রেস্টুরেন্টটি বেশ বড়। ভেতরের ঢুকলেই ডান দিকে চোখে পড়ে সিরিয়ালি সাজানো বসার আসন। তার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সাজিয়ে রাখা টেবিল। সামনের অংশে বিশাল একটি ছবি আঁকা। যে ছবিটা আসলে কোনোভাবেই এই রেস্টুরেন্টের সাথে যাচ্ছিলো না।

তাছাড়া মাথার উপরে কিছু জায়গায় সবুজ আলোকসজ্জার ব্যবহার। ভেতরটা অনেক গুমোট ছিলো। আলাদাভাবে ভালোলাগার মত গোছানো সাজ-সজ্জা চোখে পড়েনি। রেস্টুরেন্টের আকার অনুযায়ী আরো কিছুটা সুন্দর সাজ-সজ্জা তারা চাইলেই হয়তো করতে পারতেন!

সার্ভিস

কর্মরত ওয়েটাররা; source: লেখিকা

পরিবেশ হতাশ করলেও খাবারের স্বাদের মত সার্ভিসও বেশ ভালো লেগেছে এখানকার। তাদের কথায় ও কাজে পেশাদারিত্ব স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে। কাস্টমারদের প্রতি তারা বেশ যত্নশীল ও বিনয়ী। এই বিষয়গুলো বেশ ভালো লেগেছে। তাই বলতেই হয় সার্ভিস নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট।

লোকেশন

বাড্ডা নতুন ইউলুপটির সামনেই এই রেস্টুরেন্টটি। বাড্ডা মসজিদটি পেড়িয়ে কিছুদূর আগালে, নতুন ইউলুপটির কাছাকাছি গিয়ে যেকাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে টাইকিং থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টটি। রামপুরার দিক থেকে এলে, হাতের বামদিকে পড়বে আর বাড্ডার দিক থেকে হাতের ডানদিকে।

ফিচার ইমেজ- লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here