নিউ আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের মজাদার হালিম

আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট আমার বাসার পাশেই। রোজ এই রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে আমরা চলাফেরা করি। এর পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে মজাদার খাবারের ঘ্রাণে পাগল হয়ে যাই। বহুবার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে এখানে খেয়েছি। এখানকার সব খাবার চেখে দেখার সুযোগ না হলেও, আমরা অধিকাংশ সময়ে হালিম, গ্রিল ও নান রুটি খেয়েছি। এই হোটেল ও রেস্টুরেন্টের গ্রিল অনেক মজা। হালিমও অনেক মজা। আমি এবং আমার বন্ধু কান্তা বেশ কয়েকবার এখানে হালিম খেয়েছি। মাঝে মাঝে নান রুটি দিয়ে হালিম খেয়েছি। কম দামে মোটামুটি ভালো মানের হালিম পাওয়া যায় এখানে।

সেদিন স্টুডেন্ট পড়ানো শেষে একটু টোকিও স্কয়ারে গেলাম। আমার একজন বন্ধুকেও আসতে বললাম। আমার অন্য একজন বন্ধুর জন্মদিনের গিফট কেনার জন্য টোকিও স্কয়ারে গিয়েছি। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে বন্ধুর জন্য জন্মদিনের গিফট কিনলাম। তারপর আমার তো প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগে গেছে। তাই ভাবলাম কিছু একটা খাবো।

হঠাৎ মনে হলো আল-আমিন রেস্টুরেন্টের হালিমের কথা। সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে হালিম মন্দ হবে না। আমি এবং আমার বন্ধু দু’জনে টোকিও স্কয়ার থেকে হাঁটতে শুরু করলাম সোসাইটির উদ্দেশ্যে। কারণ রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। এই জ্যামের মধ্যে রিকশা নিলে আধা ঘণ্টা কিংবা একঘণ্টা লেগে যাবে আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে পৌঁছাতে। আর হেঁটে গেলে সময় লাগবে মাত্র দশ মিনিট।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে পৌঁছানোর পর ভেতরে ঢুকলাম। বরাবরের মতো এখানে অনেক ভিড়। প্রথমে ভেবেছিলাম, ভেতরে হয়তো বসার জায়গা খালি নেই। একটু চোখ বোলাতেই ফাঁকা জায়গা খুঁজে পেলাম। ওয়েটারকে বললাম, ভালো করে টেবিলটা মুছে দিতে। সে একবার মুছে দিলো। তবে ভালো করে মুছা হয়নি। পুনরায় মুছে দিতে বললাম। সে শুকনো কাপড় দিয়ে পুনরায় মুছে দিলো। তারপর আমি এবং আমার বন্ধু বসলাম। পুরো হোটেলের ভেতরে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলাম সবগুলো সিট ভরা। যে যার মতো খাচ্ছে। পাশের টেবিলে দু’জন পুরুষ বসেছে। তারা একটার পর একটা অর্ডার করছে আর খাচ্ছে।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমরা ওয়েটারকে বললাম দুটো হালিম দিতে। কারণ অনেকদিন ধরে হালিম খেতে ইচ্ছে করছে। তারপর বেশ কিছু ছবি তুললাম পুরো হোটেলের। মেন্যুর ছবি তোলা হয়নি। কারণ এখানকার ওয়েটাররা মুখে মুখে বলে দেয় কী কী পাওয়া যাবে। হোটেলের আসন বিন্যাস, সাজসজ্জা, অভ্যন্তরীণ সজ্জা, আলোকসজ্জার বেশ কিছু ছবি তুলেছি। অর্ডার দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হালিম চলে এলো। হালিমের পরিবেশন ভালো লাগলো আমার কাছে।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

বরাবরের মতো আলাদা বাটিতে লেবু দিয়ে গেলো। আমরা হালিম খাওয়া শুরু করলাম। হালিম মুখে দিতেই ভালো লাগলো। তবে খাওয়ার সাথে সাথে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে লাগলাম আগের মতো অত স্বাদ হয়নি। আগে অন্যরকম স্বাদ ছিল। কিন্তু এখন ভালো লাগছে না। মোটামুটি লাগছে। আমার বন্ধুর কাছে অবশ্য অনেক ভালো লেগেছে। সে বারবার বলছে ‘হালিমটা খেতে ভালো। তুমি ঠিকই বলেছিলে’।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

হালিমের মধ্যে তারা মাংস দিয়েছি মাত্র দুই-তিন টুকরা। ভেতরে আদা কুচি ও কাঁচা মরিচ কুচি দিয়েছে। আদা কুচি কামড়ে পড়লে আমার ভালোই লাগে। আমি সবভাবে হালিম খেয়ে অভ্যস্ত। তবে হালিমে তারা শসা কুচি দিতে হয়তো ভুলে গেছে। ভুলে গেছে নাকি ইচ্ছে করে দেয়নি তা জানিনা। অন্য একটি বাটিতে লেবু দেওয়ায় লেবুর রস চেপে নিয়ে পুরো হালিমের সাথে মিশিয়ে নিয়েছি। হালিম খাওয়ার এক ফাঁকে মনে হয়েছে, মরিচ হয়তো কম দিয়েছে। আমি অয়েটারকে পুনরায় একটা মরিচ কেটে আনতে বললাম। সে কেটে আনলো। আরো কিছু মরিচ কুচি মিশিয়ে নিয়েছি। এতগুলো মরিচ মেশানোর পর আমার মনে হলো মরিচ না মেশানোই ভালো ছিল। ততক্ষণে হালিম ঝাল হয়ে গেছে!

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

পাশে আমার বন্ধু থাকায় আমার যে ঝাল লেগেছে তো বুঝতে দেইনি। কারণ সে বলেছিলো, মরিচ কুচি না নিতে। সে মনে মনে হাসবে ভেবে কিছুই বলিনি। তবে ঝাল হলেও খাবারটা ভালো লেগেছে আমার কাছে। আগের মতো অত স্বাদ না পেলেও খারাপ লাগেনি। আমার বন্ধুর কাছে অনেক ভালো লেগেছে এখানের হালিম। হালিম খাওয়ার এক ফাঁকে আমার বন্ধু দুটো সেভেন আপ দিতে বললো। আমরা হালিম খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে সেভেন আপে চুমুক দিচ্ছিলাম।

অভ্যন্তরীণ সজ্জা

আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট বেশ পরিপাটি। এখানে সবসময় ভিড় থাকে। সকাল, দুপুর, বিকেল যখন যাই, তখন মানুষের ভিড় দেখি। তবে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় বেশি থাকে। এই হোটেলের খাবার ভালো দেখে সবাই এখানে খেতে আসে। ছোট-বড় সবাই আসে। তবে এটি নিতান্তই হোটেল। আরো পাঁচটা হোটেলের চেয়ে একটু উন্নতমানের। খুব সাধারণ হোটেলগুলোতে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতার দিকটি বিবেচনায় কম রাখে। তবে এখানকার পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করার মতো।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

প্রতিটি চেয়ার ও টেবিল সুন্দর। টেবিলগুলো কাঁচের তৈরি। ঝকঝকে, তকতকে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রয়েছে। দেয়ালে হালকা কাজ রয়েছে। ছোট ছোট ফ্যান ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। একপাশে হাত ধোয়ার জন্য আলাদা স্থান রয়েছে। হোটেলের আলোকসজ্জা বেশ। এখানে গোপনীয়তার কোনো জায়গা নেই। লাল বাতি কিংবা হালকা অন্ধকার পরিবেশ নেই। সাদা আলোয় পুরো হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আলোকিত।

পরিবেশ

আল-আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট যেহেতু হোটেল প্রকৃতির, এখানে অনেক মানুষ খেতে আসে। মানুষের ভিড় ঠেলে বসার স্থান পেলে, বসতে হয়। অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বেশ ভালো। তাছাড়া ভেতরে বেশ প্রশস্ত জায়গা রয়েছে। খুব ঘিঞ্জি নয়।

স্বাদ

হালিমের স্বাদ ভালো লেগেছে। তবে আগের মতো স্বাদ পাইনি। তবে আমার বন্ধু মজা করে হালিম খেয়েছে। তার কাছে খুব ভালো লেগেছে।

মূল্য

দুটো হালিম ১২০ টাকা। দুটো সেভেন আপ ৩০ টাকা। দুই গ্লাস পানি ২ টাকা।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমাদের মোট খরচ হয়েছে ১৫২ টাকা।

অবস্থান

এটি মোহাম্মদপুরের সোসাইটির মেইন রোডে অবস্থিত। হক ফুডস ও সোলনার বিপরীত পাশে এর অবস্থান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here