বেলকুচির ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্টের চিকেন ফ্রাই ও কোল্ড কফি

ভাদ্রের তাল পাকা গরমে শুধু তাল পাকছে না, মানুষও দরদর করে ঘামছে। কয়েকদিনের টানা তাপদাহ আর লোডশেডিঙের কারণে জীবন যেন ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড গরমের কারণে দিনে বাইরে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছি না কয়েকদিন। বাইরে গেলে গরমে অতিরিক্ত ঘেমে একদম ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরতে হয়। তাই ঢাকা থেকে বেলকুচিতে গ্রামের বাড়ি আসার পর দিনে বাইরে যাওয়া একেবারেই বাদ দিয়েছি।

ছবিসূত্র: লেখক

খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া যাই না। ছোটবেলা থেকে সিরাজগঞ্জ শহরে থেকে পড়াশোনা করেছি এবং সেখানেই বড় হয়েছি। গ্রামে দুই একজন ছাড়া তেমন বন্ধু নাই। তবে ‘আলোকিত বেলকুচি’ নামে একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িত হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকজনের সাথে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে অনিকেত সাহা নামের এক বড় ভাইয়ের সাথে আমার বেশ ভাব জমে গেছে। দাদা মাঝেমধ্যেই ফোন করে মুকুন্দগাঁতি বাজার যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে আমরা গল্প করে বেশ কিছু সময় কাটাই প্রায়।

আগে অনিকেত দাদা এবং আমি দু’জনেই ফ্রি থাকতাম, অনেক আড্ডা দিতাম। কিন্তু এখন আমরা দুইজনেই ব্যস্ত হওয়ার কারণে তেমন দেখা হয় না।

অনিকেত দাদা বেশ কয়েকদিন ধরেই ফোন করছে দেখা করার জন্য। কিন্তু আমি একদমই সময় পাচ্ছিলাম না। অবশেষে গত রবিবার সন্ধ্যায় ফ্রি ছিলাম। ভাবলাম আজ মুকুন্দগাঁতি বাজারে গিয়ে দাদার সাথে দেখা করি আর কোথাও বসে গল্প করি। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম, বেলকুচির ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্টে গিয়ে কিছু খাই আর গল্প করি।

ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্ট বেলকুচিতে প্রথম ফাস্টফুডের রেস্টুরেন্ট। আমাদের উপজেলার অধিকাংশ মানুষ তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত। সবাই শাড়ি এবং লুঙ্গির ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসার কথা ভাবতেই চান না। তাই এতদিন বেলকুচিতে ভালো মানের তেমন কোনো রেস্টুরেন্ট ছিল না। তবে চিন্তাধারার পরিবর্তন হওয়ায় নতুন দুই তিনটা রেস্টুরেন্ট হয়েছে। রেস্টুরেন্টগুলো বেশ ভালোই নাম করেছে। ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্টে এর আগে একদিন এসেছিলাম। বেশ ভালোই লেগেছিল সেদিনের চিকেন ফ্রাই। তাই আবার গিয়ে চিকেন ফ্রাই আর গরমে ঠাণ্ডা অনুভূতির জন্য কোল্ড কফি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। দুইজনে রেস্টুরেন্টের ভিতরে গিয়ে বসলাম।

ছবিসূত্র: লেখক

প্রথম দিন এসে চিকেন ফ্রাই খেয়েছিলাম, বেশ ভালো লেগেছিল। তবে সেদিনের ফ্রাইটা ছিল দেশি মুরগির। তাই আজকেও একই চিকেন ফ্রাই খেতে চাইলাম। কিন্তু সেটা শেষ হওয়ায় ফার্মের চিকেন ফ্রাই আর কোল্ড কফি অর্ডার করে রেস্টুরেন্টের ভিতরের চারদিকটা ভালো করে দেখছিলাম। রেস্টুরেন্টের ভিতরের কিছু ছবি তুলতে চাইলাম কিন্তু তখন অনেক কাস্টমার থাকায় ছবি তোলা হলো না। এরমধ্যে আমাদের অর্ডার করা খাবার চলে এলো। প্রথমে চিকেন ফ্রাই দেওয়া হলো, পরে দেওয়া হলো কোল্ড কফি।

খাবারের স্বাদ

প্রথমে চিকেন ফ্রাইটা খেলাম। চিকেন ফ্রাইটা এমনিতে বেশ ক্রিসপি ছিল। তবে একটু বেশি ফ্রাই করার কারণে উপরের দিকটা একটু পোড়া পোড়া লাগছিল। আমি সাধারণত বয়লারের মুরগি তেমন পছন্দ করি না। সে-কারণে দেশি মুরগির চিকেন ফ্রাই অর্ডার করতে চেয়েছিলাম। আর প্রথম দিন দেশি মুরগির যে চিকেন ফ্রাই খেয়েছিলাম সেটা বেশ সুস্বাদু ছিল। এটাও অনেক সুস্বাদু ছিল, শুধু উপরে অংশটা বাদে। হয়তো অসাবধানতার কারণে বেশি ফ্রাই করার ফলে এমন হয়েছে। তবে একেবারে খারাপ ছিল না। চিকেনটা বেশ ভালোভাবে সেদ্ধ হয়েছিল। বলতে গেলে, চিকেন ফ্রাইটা মোটামুটি ভালোই ছিল।

ছবিসূত্র: লেখক

তবে কোল্ড কফির স্বাদটা তেমন ভালো লাগেনি। দেখতে যতোটা সুন্দর ছিল খেতে ততোটা ভালো ছিল না। কফিটা খুবই সাধারণ মানের ছিল। কফির দাম খুব বেশি না, সে কারণে হয়তো কফির মানটা একটু সাধারণ। সাধারণত স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েদের কথা মাথায় রেখে খাবারের দাম নির্ধারণ করেছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। তবে দাম অনুযায়ী চিকেন ফ্রাইটা ভালো ছিল। তবে কোল্ড কফিটা আরো একটু ভালো হওয়া উচিত ছিল।

রেস্টুরেন্টের ভিতরের সাজসজ্জা

ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্টের ভিতরের সাজসজ্জা বেশ ভালো লেগেছে। পুরো শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এবং ফ্লোরে কার্পেট বিছানো। সুন্দরভাবে কাঁচের টেবিলে চেয়ারগুলো সাজানো গোছানো। প্রতিটি টেবিলে চারজন করে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলাদাভাবে খাওয়ার জন্য দুইটি কেবিনও রয়েছে।

ছবিসূত্র: লেখক

দেয়ালে লাগানো ওয়ালপেপারগুলো মোটামুটি সুন্দর এবং রঙিন বাতিগুলো রেস্টুরেন্টের ভিতরের পরিবেশকে বেশ ঝলমলে করে তুলেছে। রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশের দরজা এবং দেয়ালে বেলুন দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো। জানালায় লাগানো পর্দাগুলো বেশ রুচিশীলতার ছাপ ফুটিয়ে তুলেছে। এছাড়া ভিতরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি টয়লেটও রয়েছে। তবে রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় জানতে পারলাম, ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্টের পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো করা হয়েছে। সাজসজ্জায় নতুন অনেক কিছু যোগ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের মতো মফস্বলের একটি উপজেলার রেস্টুরেন্ট হিসেবে ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্টের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা মোটামুটি অনেক ভালোই বলা চলে। আমার নিজের কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

পরিবেশন

খাবার পরিবেশনটা ছিল সাধারণ। চিকেন ফ্রাইয়ের সাথে শুধুমাত্র ছোট এক পিস প্রাণ সস ছিল। এছাড়া সাথে এক বোতল পানি ছিল। তবে যে প্লেটে চিকেন ফ্রাই পরিবেশন করেছে তারা চাইলে সেটা আরো একটু ভালো মানের হতে পারতো।

ছবিসূত্র: লেখক

কোল্ড কফির পরিবেশন মোটামুটি ভালোই ছিল। সাধারণত যেভাবে কোল্ড কফি পরিবেশন করা হয় সেভাবেই করা হয়েছে। সেইসাথে একটা গ্লাসে কিছু টিস্যু দেয়া ছিল আগে থেকে। এছাড়া রেস্টুরেন্টের কর্মচারীর ব্যবহার বেশ ভালো।

খাবারের দাম

খাবারের দাম মোটামুটি অনেক কম। স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের টার্গেট কাস্টমার হিসেবে ধরায় তারা দাম কম নির্ধারণ করেছে।

মূল্য তালিকা; ছবিসূত্র: ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্টের ফেসবুক পেজ নেওয়া

চিকেন ফ্রাইয়ের দাম প্রতি পিস ৭০ টাকা এবং কোল্ড কফির দাম ৪০ টাকা। তবে সেখানে অন্যান্য যে খাবারগুলো রয়েছে তার দামও তুলনামূলক কম।

অবস্থান

ফ্রেন্ডস রেস্টুরেন্ট সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মুকুন্দগাঁতি বাজারের জাহিদ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত।

 

ফিচার ইমেজ: লেখক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here