মুন্না মামার কাবাব ঘরে হালিম, লুচি ও টিকিয়া ভোজন

গতকাল সন্ধ্যায় আমি যখন স্টুডেন্ট পড়াচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ আমার এক বান্ধবী আমাকে ফোন দিলো। ফোন দেওয়ার একটি কারণ- অনেকদিন দেখা হয় না, আরেকটি কারণ- হালিম খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে জাগা। আমি তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললাম। কারণ সে একটি কাজে আমার স্টুডেন্টের বাসার কাছাকাছি একটি টেইলার্সে এসেছিল।

পড়ানো শেষে আমি বের হলাম। ওর সাথে দেখা হলো। তারপর ভাবলাম হালিম খেতে কোথায় যাবো? হঠাৎ আমার বান্ধবী বললো, ‘সলিমুল্লাহ রোডে মজাদার হালিম পাওয়া যায়। তোর হাতে সময় থাকলে চল যাই’। আমিও তার প্রস্তাব শুনে রাজি না হয়ে পারলাম না।

অনেকদিন থেকে আমারও ইচ্ছে করছিলো সলিমুল্লাহ রোডে হালিম খাব। কিন্তু সময় ও সুযোগ কোনোটাই হয়ে উঠছিলো না। আর তাছাড়া, আমি লোকের মুখে মুখে সলিমুল্লাহ রোডের মুন্না মামার কাবাব ঘরের হালিমের শুনাম অনেক শুনলেও, কখনো যাইনি। আমার আবার একা একা কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। সাথে কোনো বন্ধু থাকলে গল্প করতে করতে যাওয়া যায় আবার আড্ডাও হয়, মন ভালো থাকে।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

আমরা হাউজিং লিমিটেড থেকে একটা রিকশা নিলাম সলিমুল্লাহ রোডের উদ্দেশে। সলিমুল্লাহ রোডে ঢুকতেই হাতের ডান পাশে মুন্না মামার কাবাব ঘর দেখা যায়। আমরা রিকশা থামিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। কারণ মুন্না মামার কাবাব ঘরের দুটো রুম কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। বসার মতো সিট ছিলো না।

আমার বান্ধবী বললো, এখানে নাকি বসার মতো সিট কখনো পাওয়া যায় না। সবসময় ভিড় থাকে। স্বভাবতই সিট না পেলে প্রথমে বাইরে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে হয়। তারপর খালি হলে বসতে হয়।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

আমরা দুইজন বাইরে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। মুন্না মামার কাবাব ঘরের একজন কর্মী আমাদের ডাকলেন। তারপর ভেতরে দুটো চেয়ারে বসতে বললেন।

মুন্না মামার কাবাব ঘর দেখতে খুব সাদামাটা। হোটেল কিংবা সাধারণ কাবাব ঘর যেমন হয়, ঠিক তেমন। বাড়তি কোনো সাজসজ্জা নেই। খুব ছোট ছোট দুইটি ঘর। এখানে চেয়ার পাতা। আর সামনে সমতল টেবিল রাখা। টেবিলে লাল রং করা। দেখতে ভালোই লাগছিল আমার কাছে।

আরেকটু লক্ষ্য করতেই দেখতে পেলাম ভেতরে মেন্যু তালিকা ঝুলানো আছে। প্রথমে আমি খেয়াল করিনি। কিছুক্ষণ পরে দেখেছি। যেহেতু আমি রিভিউ লিখি, সেহেতু ছবি তুলে নিলাম।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

মেন্যুতে অনেক কিছু লেখা আছে। এখানে এই সবকিছু পাওয়া যায়। কারণ রোজ রোজ অনেক দূর থেকে গরুর চাপ, লুচি, হালিম, কাবাব খেতে লোকজন আসে। এখানে গরুর চাপ, গরুর বটি, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মগজ ফ্রাই, দেশি মুরগি, শিক কাবাব, খিরি কাবাব, গুরদা কাবাব, স্যুপ, বিফ কলিজা, অন্তন, কিমা পুরি, খাসির বটি, চিকেন কাটি ইত্যাদি পাওয়া যায়।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

শিয়া মসজিদ হয়ে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের দিকে এগোতে থাকলে, মাঝখানে সলিমুল্লাহ রোড পড়ে। সলিমুল্লাহ রোডে ঢুকলেই হাতের ডান পাশে দুটো খাবারের দোকান দেখা যায়। এই খাবারের দুইটি দোকান মুন্না মামার কাবাব ঘর নামে সুপরিচিত। যদিও হাতের বাম পাশে অন্যদের দোকান রয়েছে।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

দিনের বেলা বেশি ভিড় না থাকলেও বিকেলের পর থেকে এখানে অনেক ভিড় হয়। সন্ধ্যায় তো কথাই নেই। আমি লোকমুখে এখানকার খাবারের বেশ সুনাম শুনেছি। তাই আজ বান্ধবীর কাছ থেকে খাবারের আমন্ত্রণ পেয়ে কালক্ষেপণ করিনি, কোনো প্রকার অজুহাত দেখাইনি।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

আমি ও আমার বান্ধবী হালিম, লুচি এবং টিকিয়া অর্ডার করলাম। তারপর বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম। ছবি তোলার এক ফাঁকে আমি বলেছি ফুড রিভিউ করবো তো তাই ছবি তুলছি। তখন কর্মীরা কিঞ্ছিত পরিমাণও বিরক্ত না হয়ে ভালো করে ছবি তোলায় আমাকে সহযোগিতা করলো। দেখে মনে হলো তারা খুব আন্তরিক। আমি খাবার প্রস্তুতের স্থান, খাবার, আলোকসজ্জা, দোকানের ছবি তুলেছি।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

কিছুক্ষণের মধ্যে খাবার চলে এলো। এখানকার হালিমের একটি বৈশিষ্ট্য হলো কোয়েল পাখির ডিম। হ্যাঁ, এখানে হালিমের সাথে কোয়েল পাখির ডিম দেয়। দেখতে খুব সুন্দর।

যখন আমাদের সামনে হালিম দিয়ে গেল পরিবেশনটা ভালোই লেগেছে আমার কাছে। তারপর লুচি এবং টিকিয়া দিয়ে গেল। আমরা দুইজন থাকলেও হালিম দিতে বলি একটি। কারণ আমার বান্ধবী পুরোটা খেয়ে শেষ করতে পারে না। ও আগেও খেয়েছে এখানে। তাই পরিমাণ ও স্বাদ সবটা সে জানে।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

হালিম দেখে আমার বেশ ভালো লেগেছে। খেতেও বেশ দারুণ লেগেছে। কোয়েল পাখির ডিমটা অনেক ভালো লেগেছে। সুস্বাদু। হালিমে মাংসের টুকরা ছিল চার পাঁচটা। হালিমের পরিমাণও বেশি ছিল। আমরা দু’জন মিলে খেয়েছি। পেট ভরে গেছে হালিম খেয়ে। এখানকার হালিমের মধ্যে তেঁতুলের টক দেয়। কারো তেঁতুলের টক ভালো না লাগলে তাদের মানা করতে হয় আগে থেকে। তাহলে আর টক দেয় না। আমরা টক ছাড়া খেয়েছি। টক ছাড়াই আমাদের কাছে ভালো লেগেছে।

ছবিসূত্র: রিক্তা রিচি।

আর লুচি এবং টিকিয়া বেশ মজাদার লেগেছে। লুচিগুলো সদ্য চুলা থেকে নামানো ছিল। গরম গরম খেতে খুব ভালো লেগেছে। টিকিয়া একটু ঝাল ছিল। ঝাল হলেও বেশ মজাদার লেগেছে।

অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও পরিবেশ

মুন্না মামার কাবাব ঘরের অভ্যন্তরীণ সজ্জা বলতে তেমন কিছুই নেই। তবে বসে খাওয়ার মতো স্থান রয়েছে। আর আলো বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের খাবার প্রস্তুত করার স্থান ও কৌশল মন্দ না। যথাসম্ভব পরিপাটি থাকার চেষ্টা করে তারা।  দেয়ালে শুধুমাত্র সাদা রং করা। নিচের দিকে খানিক অংশে লাল রং রয়েছে। তাছাড়া বাড়তি কোনো সাজসজ্জা নেই।

খাবারের স্বাদ

হালিমের স্বাদ আমার কাছে ভালো লেগেছে। হালিমে ডাল ও মশলার পরিমাণ, মাংসের পরিমাণ, লবণ, ঝাল, পেঁয়াজ কুচি, শসা কুচি, কয়েল পাখির ডিম সব মিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে খেতে। তাছাড়া টিকিয়া, লুচির স্বাদও ভালো লেগেছে।

মূল্য

হালিম: ৬০ টাকা।

লুচি দুইটা: ১০ টাকা।

টিকিয়া একটি: ১০ টাকা।

অবস্থান

সলিমুল্লাহ রোড, মোহাম্মদপুর ঢাকা ১২০৭।

 

ফিচার ইমেজ সোর্স: রিক্তা রিচি।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here