শর্মা কিং এর মজাদার সব খাবার

ঢাকার ফুডিজদের কাছে “শর্মা কিং” একটি অতি পরিচিত নাম। ঢাকায় তিনটি শাখাসহ কক্সবাজারেও শর্মা কিং এর একটি শাখা রয়েছে। তাদের গুণাবলি ও সুনামের জন্য রেস্টুরেন্ট জগতে নিজেদের একটা পরিচিতি বানিয়ে নিয়েছে। শর্মা কিং এর বনশ্রী শাখাটি বাসার কাছেই হওয়াতে মাঝেমধ্যে যাওয়া হয়। আজ লিখবো শর্মা কিং নিয়ে।

প্রথমেই বলি, আমি যতোবার গিয়েছি, ওয়েটারদের ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছে। হয়তো ব্যস্ততা থাকলে তাদের অর্ডার নিতে বা খাবার পরিবেশন করতে একটু সময় লেগেছে। তবে তাদের ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু নেই। রেস্টুরেন্টে ঢুকে পছন্দসই জায়গাতে বসে অপেক্ষা করলে ওয়েটার এসে অর্ডার নিয়ে যায়। ডাকাডাকি করার কোনো প্রয়োজন হয় না।

স্প্রিং রোল; Source: লেখিকা

শেষবার গেলাম দু’দিন আগেই। আমরা আটজন ছিলাম। তাই খাবার অর্ডার করা হয়েছিলো অনেক। বসার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই অর্ডার নিয়ে যায়। আমরা অর্ডার করেছিলাম থাই স্যুপ, স্প্রিং রোল, শর্মা, পাস্তা বাস্তা, সেট মেন্যু ও হায়দ্রাবাদী দম বিরিয়ানি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়েটার এসে জানিয়ে যায়, বিরিয়ানি হচ্ছে না আজ। তাই বিরিয়ানি আমরা বাদ দেই। এরপর খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।

কোথাও খাবারের অর্ডার দিয়ে বসে থাকা ব্যাপারটা বিরক্তিকর। আর সেদিন খাবারের অর্ডার বেশি থাকায় সময় লাগে একটু তাদের। মিনিট পনের পর খাবার পরিবেশন করতে শুরু করে।

প্রথমে দিয়ে যায় স্প্রিং রোল আর থাই স্যুপ। থাই স্যুপটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে। পরিমিত পরিমাণে মাংস ও চিংড়ি ছিলো। তবে তেমন ঘন ছিলো না, পাতলা ছিলো। থাই স্যুপ ঘন হলে খেতে বেশি মজাদার হয়। স্প্রিং রোল সাধারণ মানের ছিলো। সস দিয়ে খেলে খেতে খারাপ লাগবে না।

থাই স্যুপ; Source: লেখিকা

শর্মা কিং এ গিয়েছি, শর্মার কথা আলাদা করে বলতেই হয়। ওখানে এ্যারাবিয়ান শর্মা আর শর্মা রোল দুটোই পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যেও আছে চিকেন, বিফ, বারবিকিউ ও কিংস স্পেশাল শর্মা। সবগুলো শর্মাই মজাদার। তবে আমার কাছে এ্যারাবিয়ান শর্মার থেকে শর্মা রোলটাই বেশি ভালো লেগেছে। শর্মা কিং এ গেলে অবশ্যই তাদের শর্মা রোল খেয়ে আসার চেষ্টা করবেন।

শর্মার পর দিয়ে গিয়েছিলো পাস্তা। আমি পাস্তাপ্রেমী। পাস্তা দেখলে হুঁশ থাকে না। সেদিনও পাস্তার বাটি হাতে পেয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। শর্মা কিং এর পাস্তা বাস্তাটাই খাই সবসময়।

এমনিতে পাস্তা বাস্তাটা ওরা খুব ভালো বানালেও, সেদিন খুব একটা ভালো লাগেনি। বেক কিছুটা কম করা হয়েছিলো। এমনিতে যথেষ্ট পরিমাণে বেক করে। ফলে পোড়া পোড়া একটা ফ্লেভার চলে আসে। বাটিতে মেয়োনেজটা পুড়ে লেগে থাকে। সেটা চামচ দিয়ে তুলে খেতে আমার খুব ভালো লাগে। এজন্যই মূলত পোড়া পোড়া পাস্তাটা বেশি পছন্দের।

শর্মা; Source: শর্মা কিং এর ফেইসবুক পেইজ

সবার শেষে পরিবেশন করেছিলো সেট মেন্যু। আমরা সেট মেন্যু সি অর্ডার করেছিলাম। সেট মেন্যুতে ছিলো ফ্রাইড রাইস, ভেজিটেবল, একটি ওনথোন, এক টুকরো বারবিকিউ চিকেন, একটি চিকেন সাসলিক ও চিকেন কারি।

ফ্রাইড রাইসটা মজাদার ছিলো। পরিমিত পরিমাণে ডিম ও সবজি দেয়া ছিলো। ভাজা ছিলো ভালোভাবে। ফ্রাইড রাইস চপচপে থাকলে খেতে ভালো লাগে না। ওনথোনটা সাধারণ মানেরই লেগেছিলো। সস দিয়ে খেতে খারাপ লাগেনি।

সেট মেন্যুটায় চিকেনের প্রাধান্য ছিলো। ফ্রাইড রাইসের সাথে চিকেনের বিভিন্ন রেসিপি কার না ভালো লাগে! প্রথমে শুরু করেছিলাম বারবিকিউ চিকেন দিয়ে। বারবিকিউ করতে যে সসটা ব্যবহার করা হয়েছিলো, ওটা বেশ মজাদার। মাংসটাও ঠিকমতো বারবিকিউ করে সেদ্ধ করা ছিলো। আমি কিছু কিছু জায়গায় দেখেছি মাংস ঠিকঠাক সেদ্ধ করা হয় না। খেতে বিশ্রী লাগে।

এরপর খেয়েছিলাম চিকেন সাসলিক। সাসলিকটি সাধারণ মানেরই ছিলো। চিকেন কারিটি বেশি সুস্বাদু ছিলো। চিকেন আর তার গ্র্যাভির সাথে সামান্য ক্যাপসিকাম দিয়ে রান্না করা চিকেন কারি। মাংসের রেসিপিতে ক্যাপসিকাম দিলে আলাদা একটা স্বাদ চলে আসে এমনিতেই।
পুরো সেট মেন্যুটিই খেতে অসাধারণ লাগবে। একজনের খাওয়ার জন্য যথেষ্ট মেন্যুটি।

পাস্তা; Source: লেখিকা

খাওয়ার পালা শেষ করে আমরা অনেকক্ষণ বসে আড্ডা দিয়েছিলাম। দলবেধে আড্ডা দিতে শর্মা কিং খুব সুন্দর একটি জায়গা। চলে যেতে পারেন জন্মদিনের অনুষ্ঠান বা যেকোনো অনুষ্ঠান পালন করতে।

আমরা একটি অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়েছিলাম মূলত। বাইরের প্রচণ্ড গরমে কেক কিনে নিয়ে যেতে যেতে গলে যাচ্ছিলো। তাই শর্মা কিং এ গিয়েই কেকটি ফ্রিজে রাখতে দেই। উনারা খুব যত্ন করে কেকটি ফ্রিজে রেখে দেয়। আবার শেষে বলা মাত্রই যত্ন করে দিয়েও যায়।

খাওয়া শেষ করে আড্ডা দিতে দিতে তাদের কফিও পান করতে পারেন। শর্মা কিং এ রয়েছে ব্ল্যাক কফি, রেগুলার হট কফি, ক্যাপেচিনো, ল্যাটে, কোল্ড কফি ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে নানান ধরনের আইসক্রিম, কেক, প্যাস্ট্রি, লাচ্ছি, জুস ইত্যাদি। খাওয়ার শেষে এগুলোর যেকোনো একটি নিয়ে বসে আড্ডা দিতে ভালোই লাগবে।

পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জন যেকারো সাথেই ভালো সময় কাটবে কিছুক্ষণ। সময় সুযোগ করে একদিন চলে যেতেই পারেন। নতুন কিছু খাবারের সাথেও পরিচিত হয়ে যাবেন সে সুযোগে।

সেট মেন্যু; Source: লেখিকা

শর্মা কিং এর সব শাখায় মেম্বারশিপ কার্ড থাকলে আপনি পাবেন ১৮% ছাড়। আমাদের কার্ড থাকায় আমরা ছাড় পেয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে মেম্বারশিপ কার্ডটি করিয়ে নিতে পারেন।

রেটিং

সব খাবারের বিবেচনায় রেটিং ৭/১০ দেয়াই যায়।

মূল্য

পাঠকদের সুবিধার জন্য আমি পুরো মেন্যুটির ছবিই সংযোজন করে দিচ্ছি। তাহলে খেতে যাওয়ার আগে বাজেট মেলাতে সুবিধা হবে।

মেন্যু কার্ড; Source: শর্মা কিং এর ফেইসবুক পেইজ

মেন্যু কার্ড; Source: শর্মা কিং এর ফেইসবুক পেইজ

মেন্যু কার্ড; Source: শর্মা কিং এর ফেইসবুক পেইজ

মেন্যু কার্ড; Source: শর্মা কিং এর ফেইসবুক পেইজ

পরিবেশ

শর্মা কিং বেশ সুন্দর একটি জায়গা। অনেকটা জায়গা জুড়ে অনেক মানুষ বসার ব্যবস্থা আছে একসাথে। ভেতরে লাইটিং করা সুন্দর করে। রয়েছে কিছু গাছও। চারপাশটার সাথে সবুজ বেশ মানিয়ে যায়। সবসময়ই গান বাজানো হয় সেখানে। আপনি চাইলে আপনার পছন্দসই গান বাজানোর কথাও বলতে পারেন।

শর্মা কিং; Source: লেখিকা

লোকেশান

বনশ্রী: বাড়ি নং- ১, রাস্তা নং- ১, ব্লক- এফ, ফরায়েজী, বনশ্রী, রামপুরা।

খিলগাঁও: নাইটিংগেল স্কাইভিউ, ৫৬৬/এ, খিলগাঁও ১২১৯।

ধানমন্ডি: রূপায়ন জেড আর প্লাজা, বাড়ি নং- ৭৪৬, রাস্তা নং ৯এ, ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ১২০৮।

কক্সবাজার: সি সান রিসোর্ট, প্লট- ৫, ব্লক- এ, কলাতলী বিচ, কক্সবাজার, ৪৭০০।

 

Feature Image: লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here