শেকাহোলিকের বার্গার

ঢাকায় বসবাস করা কোনো বার্গারপ্রেমী যদি বলেন ‘আমি শেকাহোলিকের বার্গার খাইনি’ তাহলে আমি অবাক হবো। আর যদি বলেন ‘আমি শেকাহোলিকের নামই শুনিনি’ তবে আমি আকাশ থেকে পড়ার মতো অবাক হবো। এর কারণ একটাই, কম টাকায় সুস্বাদু বার্গারের নিশ্চয়তা। মাত্র ৬০ টাকা থেকে দাম শুরু করা ঢাকার বার্গার জগতে শেকাহোলিক এক অনন্য নাম।

আমি নিজেই বার্গার খুব পছন্দ করি। মগবাজারে ক্যাম্পাস আর শেকাহোলিক বেইলি রোডে হওয়ায় এপর্যন্ত শেকাহোলিকের মিনি বার্গারই সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়েছে। একটা সময় ছিলো যখন দু-চারদিন পরপর এই বার্গারটা না খেলে অশান্তি অশান্তি লাগতো। যদিও এখন অভ্যেস অনেক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। তবুও শেকাহোলিকের বার্গারের প্রতি প্রেম কি আর কমে!

মিনি বার্গার; Source: লেখিকা

বেইলি রোডের বেইলি স্টারের বিপরীত দিকের রাস্তায় সুইস কেইকের পাশেই শেকাহোলিক। ওয়েস্টার্ন ফাস্ট ফুড শপের ধারণার মতো এই রেস্টুরেন্টেও কোনো বসার জায়গা নেই। অল্প একটু জায়গায় বার্গার, কোল্ড কফি ও বিভিন্ন জুস বানানোর সরঞ্জামাদি। ভেতরে সবসময় কমপক্ষে তিনজন স্টাফ থাকেন। তবুও তাদের ক্রেতাদের বার্গার সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হয়।

একবারে সামনের দিকেই বার্গারের মাংস সবসময় একজন গরম করতে থাকেন। তার পাশেই বান গরম হয়। অপরদিকে একজন লেটুস পাতা কাটতে থাকেন। বানের মধ্যে মাংস দিয়ে লেটুস পাতা দিয়ে বার্গার সাজানো হয়। এর সাথে দেয়া হয় মেয়োনেজ ও সস। সামনে আরেকজন থাকেন তিনি ক্রেতাদের বার্গার ডেলিভারি দেন। মাঝেমাঝে আরো বাড়তি স্টাফও থাকে। যখন কাজের বেশি চাপ থাকে।

বার্গার বানানো হচ্ছে; Source: লেখিকা

সবচেয়ে সস্তা ৬০ টাকার মিনি বার্গারটা ছাড়াও শেকাহোলিকে আছে স্টেক বার্গার, চিকেন ব্লাস্ট, বিফ ব্লাস্ট ও শেকাহোলিক স্পেশাল বার্গার। এছাড়া আছে চিকেন স্যান্ডউইচ আর ক্লাব স্যান্ডউইচ। ড্রিঙ্কসের ক্যাটাগরিতে আছে কোল্ড কফি, স্ট্রবেরি শেইক, ম্যাংগো শেইক, ওরিও শেইক, কিটক্যাট শেইক, নসিলা শেইক, ব্লিজার্ড, লেমনেড, চা এবং ক্যাপোচিনো। ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায় শেকাহোলিকের যেকোনো একটি আইটেম ট্রাই করতে পারবেন।

শেকাহোলিকে আমি বেশিরভাগ সময়েই মিনি বার্গার আর কোল্ড কফি খেয়েছি। এছাড়াও শেইক, লেমনেড আর স্যান্ডউইচও চেখে দেখা হয়েছে। সবকিছুর মধ্যে আমার পছন্দ শেকাহোলিকের বার্গার। শেকাহোলিক পরিচিতও এই বার্গারের জন্যই। সারাদিন জুড়ে দোকানটির সামনে ভীড় লেগেই থাকে। ওদিকে গেলে কখনো একজনও দোকানের সামনে বার্গারের জন্য দাঁড়িয়ে নেই দেখিনি।

ক্লাব স্যান্ডউইচ; Source: ফেইসবুক পেইজ

শেকাহোলিকে বার্গার খেতে চাইলে প্রথমে অর্ডার করে টাকা পরিশোধ করতে হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি ওয়ান টাইম প্লেটে আপনাকে বার্গার দিয়ে দেয়া হবে। বার্গারের পাশেই সস দিয়ে দেয়া হবে। আর কাউন্টারের ওপর সস আর মেয়োনেজের বোতল থাকে। ইচ্ছে করলে নিজের চাহিদামতো এগুলো নিয়েও নিতে পারবেন। তারপর এক কোণায় দাঁড়িয়ে বার্গারে কামড় দেয়া শুরু করুন। নিঃসন্দেহে বার্গারের জগতে হারিয়ে যাবেন।

বার্গারের বানের ভেতর অনেকগুলো মুরগি মাংসের টুকরো দেয়া হয়। এতো কম টাকায় এতগুলো মাংস দেয়া বার্গার খেতে গিয়ে মনে হবেই, ভাগ্যিস শেকাহোলিক ছিলো! আর এর সাথে সস আর মেয়োনেজের মিশেল তো আছেই। বানটাও খুবই নরম। আফসোস একটাই থাকবে, বড় করে দুটো কামড় বসালেই বার্গারটা শেষ। শেষ হতেই মনে হবে, আরেকটু বেশি হলে তো ক্ষতি ছিলো না!

চিকেন বার্গার; Source: ফেইসবুক পেইজ

মিনি বার্গার ছাড়াও স্টেক বার্গার, চিকেন বার্গার, বিফ বার্গার বা শেকাহোলিকের স্পেশাল বার্গার সব কয়টাই বেশ কম দামে আপনার বার্গার খাওয়ার ইচ্ছেটা পূরণ করবে। পকেট ভারি হলে আর পেটে জায়গা থাকলে একটার বদলে দুটোও খেয়ে নিতে পারেন একসাথে। তবে খেয়াল রাখবেন, লোভ সামলাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যাবেন না যেন। আমরা সবাই জানি, বার্গার একটি জাঙ্ক ফুড। আর যেকোনো জাঙ্ক ফুডই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

বার্গার খাওয়া শেষ হলে গলা ভেজাতে পারেন কোল্ড কফি দিয়ে। রেগুলার চকলেট কোল্ড কফির জন্য আপনাকে গুনতে হবে মাত্র ৫০ টাকা। এই কোল্ড কফির স্বাদও খুবই মজাদার। কোল্ড কফির উপর পুরো চকলেট পাউডারের একটি আস্তরণ দেয়া থাকে। স্ট্রং দিয়ে মিশিয়ে চুমুক দিতে শুরু করুন। এই গরমে স্বস্তির নিঃশ্বাস চলে আসবে নিমিষেই।

ড্রিঙ্কস; Source: ফেইসবুক পেইজ

এছাড়া আরো নানান ধরনের শেইক, চা বা কফিও পান করতে পারেন বার্গার বা স্যান্ডউইচ খাওয়ার পর। কোনটাই আপনাকে নিরাশ করবে না। কখনো শেকাহোলিকে খাওয়া না হলে সময় করে একদিন বেইলি রোড চলে যান। একবার যাওয়ার পর আমার মতোই বারবার যেতে ইচ্ছে করবেই। শেকাহোলিকের প্রেম যে সহজে পিছু ছাড়ে না।

রেটিং

বার্গারের জন্য চোখ বন্ধ করে আমি ৮/১০ দেব।
আর অন্য সব খাবার বা ড্রিঙ্কসের জন্য ৭/১০।

মূল্য

কম দামে বার্গার খেতে শেকাহোলিকের জুড়ি নেই। পাঠকদের সুবিধার জন্য আমি পুরো মূল্য তালিকার ছবিটি এখানে সংযোজন করে দিচ্ছি।

মূল্য তালিকা; Source: ফেইসবুক পেইজ

পরিবেশ

শেকাহোলিকের পরিবেশ নিয়ে আসলে তেমন কিছু বলার নেই। যেহেতু বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। দোকানটি বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। বসে আয়েশ করে খেতে চাইলে বার্গার আর ড্রিঙ্কস নিয়ে চলে যেতে পারেন অফিসার্স ক্লাবের সামনের রাস্তায় বা রমনা পার্কে। বসার সুব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ ক্রেতাই পার্সেল নিয়ে যান। পার্সেলে করে সোজা বাসায় নিয়ে গিয়েও খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে বাসায় ওভেন থাকতে হবে। ঠাণ্ডা বার্গারে তো আর কোনোরকম স্বাদ থাকে না।

লোকেশান

২ নিউ বেইলি রোড, ১২১৭ ঢাকা। বেইলি স্টারের বিপরীত দিকের রাস্তায় সুইস কেইকের পাশেই শেকাহোলিক।

 

Feature Image: শেকাহোলিকের ফেইসবুক পেইজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here