স্টার ক্যাফের পিজ্জা ও ফালুদা

কুমিল্লায় বসবাসকারী কোন পিজ্জাপ্রেমী যদি বলে আমি এখনো স্টার ক্যাফের পিজ্জা খাইনি কিংবা স্টার ক্যাফের নামই শুনিনি, তবে আমি খুব বেশি অবাক হবো। স্টার ক্যাফের পুরো নাম ‘ক্যাপিটাল স্টার ক্যাফে’।

ক্যাপিটাল স্টার ক্যাফের বাহিরের দৃশ্য; Source: লেখিকা

কম টাকায় সুস্বাদু পিজ্জার জন্য খ্যাত এই স্টার ক্যাফেটি। মাত্র ১২০ টাকার বিনিময়ে তারা আপনাকে দেবে এক বেহেশতী খাদ্য। পিজ্জা ফ্রিক বা পিজ্জা লাভার যাকে বলে সেটাই বোধহয় আমি।

শহরের আনাচে কানাচে যত জায়গায় পিজ্জা পাওয়া যায়, সব জায়গায় আমার খাওয়া চাই-ই চাই। হাতে যেহেতু টাকা পয়সা খুব একটা থাকে না, তাই চেষ্টা করি মোটামুটি ভালো মানের রেস্টুরেন্টগুলোতে যেয়ে পেট পূজা করতে।

স্টার ক্যাফের পিজ্জা; Source: লেখিকা

খাবারের মান ভালো কিন্তু খাবারের দাম একটু সাধ্যের মধ্যে থাকে এমন রেস্টুরেন্টগুলোই আমাদের মতো স্টুডেন্টদের প্রিয় জায়গা হয়ে ওঠে। কলেজে যখন পড়তাম এই ক্যাফেটিই ছিল আমাদের বন্ধুদের আড্ডার জন্য একটা প্রধান জায়গা।

সেদিন হঠাৎ করেই ভার্সিটির বন্ধুদের নিয়ে ওপস্থিত হলাম স্টার ক্যাফেতে। পরদিন ফার্মাকোলজি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। সারাদিন ফার্মাকোলজির বিদঘুটে সব ড্রাগের নাম মাথায় ঢুকানোর ফলে বিকেলের দিকে অসহ্য লাগছিল। তাই ভাবলাম, বাইরে থেকে কিছু খেয়ে আসি।

বের হয়ে এক বন্ধুকে ফোন দিলাম। বললাম কিছু খাবো, চলে আয়। কান্দিরপাড় আসার পর কোথায় যাব ভাবতে ভাবতে সামনে স্টার ক্যাফে পড়ায়, এখানেই ঢুকে পড়লাম।

স্টার ক্যাফের ভেতরের দৃশ্য; Source: লেখিকা

ক্যাফেটির ভেতরের সাজসজ্জা এখনো ঠিক আগের মতোই আছে। অনেক পুরনো স্মৃতি, অনেক পুরনো গল্প মস্তিষ্কে জানান দিচ্ছিলো। আন্ডারগ্রাউন্ডে হওয়ায় রেস্টুরেন্টটি একটু নিরিবিলি।

একটা টেবিল দেখে বসে পড়লাম দু’জনে। ওয়েটার এসে মেন্যু কার্ড দিয়ে গেল। মেন্যু কার্ড দেখার পর আবার সেই পুরনো পিজ্জাটিই চেখে দেখবার ইচ্ছা হলো। অর্ডার করে ফেললাম ‘চিকেন পিজ্জা’ আর ‘ফালুদা’। স্টার ক্যাফের ফালুদারও অনেক সুনাম রয়েছে। প্রচণ্ড গরম থাকায় আর ফালুদা খেতে ইচ্ছে করাতেই ফালুদা অর্ডার করা। আসলে এ জায়গাটায় গেলেই আমার ফালুদা খেতে ইচ্ছে করে।

চারপাশ দেখতে দেখতেই অর্ডারের মিনিট তিনেকের মাঝেই টেবিলে পিজ্জা দিয়ে গেল। আহা সেই পিজ্জা, যা নিয়ে একটা সময় বন্ধুদের সাথে কাড়াকাড়ি করতাম।

চিকেন পিজ্জা; Source: লেখিকা

পিজ্জাটি প্রায় ৭ ইঞ্চি হবে। চিজে ভরপুর ছিল। পিজ্জাটি দেখতে খুবই সুন্দর ছিল। শুধু দেখতেই সুন্দর না, এই পিজ্জাটি খেতেও অসাধারণ। পিজ্জা বানটিও নরম, তুলতুলে ছিল। পিজ্জার টপিং হিসেব ছিল চিকেন, দুই রকমের ক্যাপসিকাম, ব্ল্যাক অরিগেনো, সবুজ অরিগেনো, চিজ আর টমেটো সস। পিজ্জার সাথেও টমেটো সস দিয়ে সার্ভ করে।

যারা চিজ লাভার তাদের জন্য এই পিজ্জা একটি স্বর্গীয় খাবার। আপনি চাইলে এক্সর্টা চিজও নিতে পারবেন বিনিময়ে মাত্র ১০ টাকা দিতে হবে। পিজ্জাটি ৬ টুকরো করা ছিল। এই পিজ্জা খেতে বসলে মনে হয় এটি আমি একাই শেষ করে ফেলবো। পিজ্জার ভাগ কাউকে দিতে ইচ্ছে করে না আমার। কিন্তু দুই টুকরো খাওয়ার পরই আপনার পেট আপনাকে জানান দেবে আমার চাহিদা মিটে গেছে, আর পারছি না।

অর্থাৎ এটি আপনার জিহ্বার চাহিদা মেটাতে যেমন পারদর্শী, তেমনি পেটের চাহিদার মেটানোর ক্ষেত্রেও সমান পারদর্শী। পিজ্জাটির প্রতি কামড়েই চিকেনের আধিক্য ছিল বলার মতো। এত কম দামে, এরকম ভালো মানের পিজ্জা শহরে আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

পিজ্জা খেতে খেতেই নাক সমান উঁচু এক গ্লাসভর্তি ফালুদা এসে হাজির। ফালুদা দেখেই আর লোভ সামলানো যাচ্ছিলো না। এমনিতেই আমি ফালুদা ভক্ত। আমার প্রিয় খাবারের মধ্যে ফালুদার নাম থাকবে সবার ওপরে।

ফালুদা; Source: লেখিকা

ফালুদার বর্ণিল রং যেন তাকে চেখে দেখার ইচ্ছেটাকে আরও বাড়িয়ে তুলছিল। আর দেরি না করে চামচ দিয়ে ফালুদা নিয়ে মুখে চালান করে দিলাম। আইসক্রিম, বিভিন্ন রকমের ফল, সাগুদানা, নুডুলস এর মিশেলে অসাধারণ এক স্বাদ।

প্রথম লেয়ারে শুধু দুই ফ্লেভারের আইসক্রিম দিয়ে ভর্তি ছিল ফালুদার গ্লাস। ফালুদা খেতে এসে যেন আইসক্রিম খাওয়ার চাহিদাও মিটে যাচ্ছে। তারপর একটু আপেল কুচি, সাথে কলাও ছিল। নিচের দিকে বিভিন্ন রকম জেল আর সাগুদানার সাথে নুডুলস। সব মিলিয়ে যেন এক মন ভালো করা স্বাদ স্টার ক্যাফের ফালুদার।

ফালুদার গ্লাসের ওপরের ছবি; Source: লেখিকা

অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা

ক্যাফে বলতে সচরাচর যেরকম হয়, এই ক্যাফেটিও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে তুলনামূলক এর জায়গাটি বেশ বড়ই বলা যায়। বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থিত বলে এমনিতে একটু অন্ধকার, তবে ভেতরে লাইটিঙের কারণে এর আলোকসজ্জা বেশ চোখের পড়ার মতো।

স্টার ক্যাফের ভেতরের বসার জায়গা; Source: লেখিকা

ভেতরে বসার জায়গায় ছিল নরম গদির সোফা। সোফাগুলো সাজানো ছিল খুব সুন্দর করে। ভেতরে ছিল শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ব্যাবস্থা।

পরিবেশ

ক্যাপিটাল স্টার ক্যাফের পরিবেশ বেশ সুন্দর, গোছানো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে তারা বেশ সচেতন। আপনি খুব আরাম-আয়েশ করেই এখানে বসে আপনার পছন্দের খাবার খেতে পারবেন পরিবারের সদস্যদের সাথে।

ক্যাফের ভেতরের দৃশ্য; Source: লেখিকা

ভেতরের দেয়ালগুলোতে রয়েছে নানা ধরনের ছবির ফ্রেম। ছবিগুলোতে তারা খাবারের ছবিকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। ক্যাফেটির ওপরের দিকটির প্রায় পুরোটা জুড়েই কাঁচের তৈরি ছিল। তাই ক্যাফেটি, আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থিত হলেও আলোর কোন কমতি ছিল না।

স্টার ক্যাফের পরিবেশ সন্তোষজনক। আপনি যদি আপনার বন্ধু বা পরিবার পরিজন নিয়ে সাধ্যের মধ্যে খুব ভালো কিছু খাবার খেতে চান তবে চলে আসতে পারেন স্টার ক্যাফেতে।

সার্ভিস

চারজন ওয়েটার আছে তাদের এইটুকুন একটা ক্যাফেতে। ক্যাশ কাউন্ডারে আছেন একজন। আপনার যদি কোনো সমস্যা হয় আপনি ক্যাশ কাউন্টারে বসা ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। তিনি আপনাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথেই সাহায্য করবেন।

স্টার ক্যাফের সার্ভিস নিয়ে আপনি হতাশ হবেন না বলেই আশা করি। টেবিলে যেয়ে বসার সাথে সাথেই আপনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মেন্যু কার্ড দিয়ে যাবে। আপনার যখন অর্ডার দিতে ইচ্ছে করবে আপনি ডেকে বললেই হবে। আপনার টেবিলে এসে পানির বোতল থেকে পানিও গ্লাসে ঢেলে দেবে। পর্যাপ্ত টিস্যু শুরুতেই দিয়ে যাবে। সব মিলিয়ে স্টার ক্যাফের সার্ভিস আপনার মন কাড়তে বাধ্য।

দাম

চিকেন পিজ্জা- ১২০ টাকা
ফালুদা- ১২০ টাকা।

রেটিং

চিকেন পিজ্জা- ৮.৫/১০
ফালুদা- ৮/১০

লোকেশন

কান্দিরপাড় নিউ মার্কেটের এস বি প্লাজার নিচ তলায় গ্রাউন্ড ফ্লোরেই পেয়ে যাবেন স্টার ক্যাফে, অর্থাৎ ক্যাপিটাল স্টার ক্যাফে নামক ক্যাফেটি।

 

Feature Image: লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here