হোটেল আল কাদেরিয়ার চিকেন টিক্কা আর আলু পরোটার খবর

রামপুরা বাজারের খুব বিখ্যাত এবং পুরোনো একটি রেস্টুরেন্ট হলো “হোটেল আল কাদেরিয়া”। বছরের ৩৬৫টি দিনই মানুষে সেখানে গিজগিজ করে । একসময়ের ছাপড়া একটি দোকান, এখন বিখ্যাত হোটেল আল কাদেরিয়া হয়েছে তাদের খাবারের সুনামের জন্যেই।

একসময় সেখানে শুধু স্থানীয়রা খেতে গেলেও এখন পুরো ঢাকা থেকেই মানুষজন খেতে আসে আল কাদেরিয়ায়। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার সবই পাওয়া যায় সেখানে। তবে সারাদিনে সব থেকে বেশি ভিড় জমে বিকেল আর সন্ধ্যে বেলায়। তেমনি এক সন্ধ্যেতে দলবল নিয়ে গিয়েছিলাম আল কাদেরিয়ায়।

টিক্কা কাবাব ; source: লেখিকা

হুট করে বিকেল থেকে সন্ধ্যের মধ্যে আল কাদেরিয়াতে গিয়েই যদি আপনি বসার জায়গা পেয়ে যান তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভাগ্য খুবই ভালো! আমি অবশ্য শুধু বিকেল বা সন্ধ্যে নয়, কখনওই গিয়ে বসার জায়গা পাইনি। আমার ভাগ্য বোধহয় বেশি প্রতিকূলে! ওই দিনেও গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। আবার সাথে বেশ কয়েকজন থাকায় জায়গার দরকারও ছিলো বেশি।
কিছুক্ষণ পর টেবিল খালি পেয়ে যাই আমরা। আসলে গিয়েছিলাম কফি পান করতে। তবে দূর্ভাগ্যবশত কফি পাইনি। আল কাদেরিয়ার কফি নিয়ে নাহয় আরেকদিন লিখবো।

আলু পরোটা; source: লেখিকা

কফির সাথে গ্রিল আর নান খাওয়ার ইচ্ছে ছিলো। তবে হোটেলের এক পরিচিত মামার কথায় শেষপর্যন্ত চিকেন টিক্কা আর আলু পরোটা অর্ডার করি। এত ভিড় থাকার পরেও খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। মিনিট দশেক পর চিকেন টিক্কা আর পরোটা চলে আসে। তবে একটু ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা ছিলো বিধায় আবার গরম করে দিয়ে যায়।

একটা মুরগির পুরো অর্ধেকটা ভালো মেরিনেট করে তারপর কয়লায় পুড়িয়ে বানানো হয় চিকেন টিক্কা। তা হাত দিয়ে ধরলেই বোঝা যায়। মুরগির পোড়া পোড়া ভাবটা স্বাদ বাড়িয়ে দিয়েছিলো অনেকটাই। স্বাদে ঝাল-ঝাল হলেও লবণের পরিমিত পরিমাণ থাকায় খেতে খারাপ লাগেনি। তবে যেকোনো কাবাব জাতীয় খাবার একটু ঝাল হলেই খেতে বেশি ভালো লাগে।

হোটেল আল কাদেরিয়া; Source: লেখিকা

চিকেন টিক্কার মাংসটা অনেক সফট থাকলেও গড়নে অন্যসব কাবাবের মতোই। আবার, গ্রিল বা চাপের স্বাদের সাথেও অনেকটা সামঞ্জস্য পাওয়া যায় চিকেন টিক্কার। তারপরেও প্রতিটির স্বাদ, ঘ্রাণ সবই আলাদা। চিকেন টিক্কার ঘ্রাণটা বেশ ভালো হলেও স্বাদে খুব একটা আহামরি কিছু লাগেনি আমার কাছে।

একজনের খাওয়ার জন্যে অর্ধেকটা মুরগির চিকেন টিক্কা পরিমাণে অনেকটা বেশিই হয়ে যায়। দুইজনের জন্য মোটামুটি ঠিকঠাক। তবে দুইজনের যেকোনো একজন খাদক হলে আবার একটু কম হবে। বিকেল বা সন্ধ্যের নাশতার জন্যে অবশ্য দুইজনে খেলেই পরিমাণে ঠিক থাকবে। যেহেতু নাশতায় খুব বেশি খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো না।

রেস্টুরেন্টের বাইরের ভিউ; Source: লেখিকা

আল কাদেরিয়ার কাবাব হোক বা গ্রিল অথবা শর্মা যে কোনোটার সাথেই তাদের নিজস্ব বানানো যে সসটা দেয়, সেটা বেশি মজার। আমার খুব পছন্দের ওখানের এই সস। সসের সাথে থাকে সালাদ। শুধু এই সস, আর সালাদ দিয়েই পুরো একটা নান রুটি খেয়ে নেয়া যায় অনায়াসে। আর মাংসের যেকোনো আইটেমেই তো এই সস আলাদা ফ্লেভার নিয়ে আসে।

কাবাবের সাথে পরোটা সুদূর তুরস্ক থেকে এসেছিলো আমাদের দেশে। আমরা সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি ভোজনালয়ে। তেমন বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট না হলে বসতেই পারলেই ডাকাডাকি শুরু হয় আমাদের, “মামা, একটা কাবাব, দুইটা পরোটা।” আবার ভারতের লুচিও চলে বেশ। মোটকথা পেটপূজোয় কোনোটাই পিছিয়ে নেই। আবার নান রুটি, তুন্দল রুটি ইত্যাদিও সমানভাবে চলে।

হোটেল আল কাদেরিয়া; Source: লেখিকা

সেদিন চিকেন টিক্কার সাথে নিয়েছিলাম আলু পরোটা। বলতে গেলে চিকেন টিক্কার চেয়ে আলু পরোটাই মজার ছিলো বেশি। পরোটাতে আলুর পরিমাণ ছিলো বেশ, নরমও ছিলো। তবে লবণের পরিমাণ কিছুটা কম ছিলো। যেটা কাবাবের সাথে খেলে অবশ্য পূরণ হয়ে যায়।

সাধারণ পরোটা আর আলু পরোটার তফাৎ নেই তেমন। শুধু এই পরোটায় ময়দার সাথে আলু ব্যবহার করা হয়। আলু থাকায় সাধারণ পরোটা থেকে এই পরোটা একটু বেশি নরম হয়ে থাকে। আবার সাথে কিছু ছাড়া শুধু সস দিয়ে খেয়ে নেয়া যায়। আল কাদেরিয়া হোটেলের আলু পরোটায়ও ছিলো তেমনই। বেশ সুস্বাদু ও বেশ নরম।

মজাদার টিক্কা কাবাব; Source: লেখিকা

বিকেলের নাস্তার জন্যে চিকেন টিক্কা আর আলু পরোটা দুটোই বেশ ভালো খাবারের তালিকাতে রাখা যায়। আর সেটা হোটেল আল কাদেরিয়ার হলে বেশ হয়। রামপুরার আশেপাশে বাসা হলে হাতে একটু সময় নিয়ে একদিন বিকেলে বেড়িয়ে যেতে পারেন আল কাদেরিয়ার উদ্দেশে।

রেটিং

চিকেন টিক্কা- ৭/১০
আলু পরোটা- ৮/১০

মূল্য

চিকেন টিক্কা অর্ধেক মুরগির হলে দাম ১৮০ টাকা। আর পুরো একটা আস্ত মুরগির চিকেন টিক্কা ৩৬০ টাকা। আলু পরোটা প্রতিটি ২৫ টাকা করে।

পরিবেশ

সারাক্ষণ ভিড় লেগে থাকলেও হোটেল আল কাদেরিয়ার পরিবেশটা বেশ সুন্দর৷ তিন সারিতে অনেকগুলো টেবিল সাজানো রয়েছে। পুরোটাতে এসির ব্যবস্থা রয়েছে। গরম বা শীতে বাইরের পরিবেশ তেমন প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু খুব নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে যেতে হবে রাস্তার ঠিক অপরপাশে হোটেল আল কাদেরিয়ার চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। সেখানে চাইনিজ সবধরনের আইটেমই পাওয়া যায়। যাদের ভিড় বা শব্দে কোনো সমস্যা নেই তাদের জন্যে হোটেল আল কাদেরিয়া আনন্দে খাবার খাওয়ার মতোই একটি জায়গা।

লোকেশন

রামপুরা বাজার থেকে একটু সামনে হাঁটলেই ওয়াপদা রোডের ঠিক বিপরীতেই হোটেল আল কাদেরিয়া। ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই বাসে করে রামপুরা বাজার বা ওয়াবদা রোড আসা যায়। রামপুরার কাছাকাছি বাসা হলে চলে যেতে পারেন একটা রিকশা নিয়েও।

 

Feature image: লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here