ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডের তিরামিশু পেস্ট্রি ও হ্যাজেলনাট ল্যাটে কফি

সকাল থেকে খুব ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে সময় কেটেছে। তখন ঈদের আর মাত্র দুই-তিন দিন বাকি। এখনও আরও কিছু কেনাকাটা বাকি রয়ে গেছে। তাই আমার বন্ধু লামিয়াকে নিয়ে মার্কেটে গেলাম। সেখানে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে গেলাম পার্লারে ভ্রু প্লাক করতে। তারপর দু’জনে অন্য এক বন্ধুর বাসায় গেলাম। ওর নাম জুঁই। উদ্দেশ্য হাতে মেহেদি লাগানো। অবশ্য আগে থেকে জুঁইকে বলে রেখেছিলাম ওর বাসায় যাবো।

যথারীতি জুঁইয়ের বাসায় চলে গেলাম। তারপর ও আমাকে খুব সুন্দর করে হাতে মেহেদি দিয়ে দিল। গল্প, আড্ডা তার ফাঁকে আমার হাতে মেহেদি দিয়ে দিয়েছে জুঁই। এক ফাঁকে লামিয়ার মনে হলো পেস্ট্রি খাওয়ার কথা। তারপর জুঁইয়েরও খুব পেস্ট্রি খেতে ইচ্ছে করলো। তাই আমরা ভাবলাম মেহেদি দেয়া শেষ হলে পেস্ট্রি খেতে ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডে যাবো। পেস্ট্রি খাওয়ার কথা মনে হলেই আমার বন্ধুরা ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। কারণ এখানের পেস্ট্রি দারুণ মজা। আমি অবশ্য ব্রেড এন্ড বিয়ন্ড সম্পর্কে আগে থেকে জানতাম না। ওদের কাছ থেকে শুনে জানতে পারলাম।

মেহেদি দেওয়া শেষ হলে আমরা তিনজন ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমরা জুঁই এর বাসা থেকে হেঁটে হেঁটে গেলাম ওখানে। কারণ জুঁই এর বাসা থেকে ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডের (মোহাম্মদপুর শাখায়) যেতে মাত্র পাঁচ-ছয় মিনিট লাগে। কিছুদূর এগোতেই জুঁইইয়ের খুব জরুরি একটা ফোন আসায় সে চলে গেল। আমি এবং লামিয়া ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডে ঢুকলাম।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডের ভেতরটা বেশ ছিমছাম ও গোছানো। আমরা যখন গেলাম, দেখতে পেলাম প্রায় সবগুলো চেয়ার ভরা। ভেবেছিলাম বসার জায়গা পাবো না। পরে দেখি একপাশের কোণায় দুটো চেয়ার ফাঁকা রয়েছে। তাই কোনোপ্রকার বিলম্ব না করে ওখানে বসে পড়লাম। আউটলেটের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। কারণ অতিরঞ্জকতা এবং আড়ম্বরতা নেই একেবারে। তবে খুব গোছালো একটা পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ রয়েছে এখানে। দেয়ালের সাজসজ্জাও বেশ সুন্দর। কোথাও কোথাও ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডের ট্যাগ লাগানো, খাবারের ছবি লাগানো আবার কোথাও কোথাও হলুদ এবং সবুজ রঙের ব্যবহার। মোটকথা অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বেশ মনোরম লেগেছে আমার কাছে।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আউটলেটের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করার মতো। কোথাও বিন্দুমাত্র ময়লা আবর্জনা দেখিনি। এমনকি প্রতিটি চেয়ার, টেবিলও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল। আলোকসজ্জা ও আলোর ব্যবহার পর্যাপ্ত ছিল। কোথাও কমতি মনে হয়নি। তাছাড়া চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা দেখেছি। ভেতরের স্থান আমার কাছে ঘিঞ্জি কিংবা হাঁটাচলার অনুপোযোগী মনে হয়নি।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমরা বসে প্রথমে মেন্যু দেখতে লাগলাম। আমরা যে পাশে বসেছি সেখানের দেয়ালে জন্মদিনের শুভেচ্ছা অর্থাৎ, ইংরেজীতে ‘হ্যাপি বার্থডে’ লেখা ছিল। বিষয়টা বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে। আমরা চেয়ারে বসার কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন কর্মী আমাদের জিজ্ঞেস করলো, কী লাগবে?

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমরা প্রথমে একটি তিরামিশু পেস্ট্রি দিতে বললাম। কারণ লামিয়ার মুখ থেকে শুনেছি, এটি নাকি অনেক মজা। অর্ডার দেয়ার পর আমি আউটলেটের বেশ কিছু ছবি তুললাম। মেন্যুর ছবি, দেয়ালের ছবি, আসন বিন্যাসের ছবি, কেক ও পেস্ট্রির ছবি তুললাম। কিছুক্ষণের মধ্যে পেস্ট্রি চলে এলো। পেস্ট্রি দেখতে খুব আকর্ষণীয় লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো, গপাগপ খেয়ে ফেলি!

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমরা দুজনে মিলে একটি পেস্ট্রি খেলাম। কারণ মিষ্টি জাতীয় জিনিস বেশি খাওয়া যায় না। পেস্ট্রির স্বাদ অনেক ভালো লেগেছে আমার কাছে। পেস্ট্রিতে সম্ভবত ক্যারামেল, কফি, ক্রিম মেশানো ছিলো। আমার কাছে খুব মজা লেগেছে। আমি এবং লামিয়া মজা করে তিরামিশু পেস্ট্রি খেলাম। তারপর ভাবলাম আর কী খাওয়া যায়! সিদ্ধান্ত নিলাম কফি খাবো। পুনরায় মেন্যু দেখতে লাগলাম। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলাম হ্যাজেলনাট ল্যাটে কফি খাবো। কর্তব্যরত কর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম, হ্যাজেলনাট ল্যাটে কফিতে কী কী উপকরণ থাকে। সে আমাকে বিনয়ের সাথে উত্তর দিলো এবং জানালো যে, এখানে দুধ, লাইট কফি ও হ্যাজেলনাটের ফ্লেভার দেয়া হয়।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

আমরা দুটো কফি অর্ডার করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা চমৎকারভাবে দুটো কফি পরিবেশন করলো। কফির স্বাদ অনেক ভালো লেগেছে আমার কাছে। সচারচর আমরা এসব কফি খাই না। তবে আজ খেয়ে দেখলাম কত্ত মজা! প্রতি চুমুকে যেন নতুনত্ব খুঁজে পেলাম। আমরা ধীরে ধীরে কফি খেলাম এবং গল্প করলাম। কত শত গল্পের স্বাক্ষী হয়ে গেল ব্রেড এন্ড বিয়ন্ড, তা কেবল আমরা জানি। আমি এক ফাঁকে কফির ছবিও তুলেছি। এত মজাদার কফি খাবো; অথচ ছবি তুলবো না, তাই কি হয়?

অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও পরিবেশ

ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডের সজ্জা, পরিবেশ, আলোর ব্যবহার সবকিছু আমার কাছে ভালো লেগেছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বসে বসে পেস্ট্রি আর কফি খাওয়ার মজা অন্যরকম।

ছবিসূত্রঃ রিক্তা রিচি।

তার উপর পুরো আউটলেটের দেয়াল সজ্জা বেশ মনোরম ও গোছালো। কোনো বাড়তি জাঁকজমকের বালাই নেই, অথচ অনেক পরিপাটি।

ব্যবহার

ব্রেড এন্ড বিয়ন্ডের মোহাম্মদপুর শাখার কর্মীদের ব্যবহার আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। খুব যত্ন করে খাবার পরিবেশন করেছে, এবং কী লাগবে না লাগবে তা জানতে চেয়েছে। তাদের চোখে মুখে আমি বিনয় দেখেছি যা সচারাচর অনেকের মধ্যে দেখা যায় না। শুধু আমাদের সাথে বিনয়ী ছিল তা নয়, অন্যান্যদের সাথেও বিনয়ের সাথে কথা বলতে দেখেছি।

মূল্য

তিরামিশু পেস্ট্রি ১৪০ টাকা। হ্যাজেলনাট ল্যাটে কফি ২১০ টাকা। আমরা যেহেতু দুটো কফি অর্ডার করেছি আমাদের বিল এসেছে ৪২০ টাকা। মোট বিল এসেছে ৫৬০ টাকা।

অবস্থান

বাসা নং-৮, রোড নং-১, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here